সোনালী ডেস্ক: বগুড়ার শিবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ৯৩ বস্তা ও নাটোরের সিংড়ায় ভিজিডি’র ৪৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া শিবগঞ্জের ঘটনায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জের জামুরহাটে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজির ৯৩ বস্তা (প্রতিটি ৩০ কেজি বস্তা) চালের চালান আটক করা হয়েছে।
এ সময় বাবর আলী (৫০) নামে ১ জনকে পুলিশ করেছে। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবেলাই গ্রামের মৃত মোকরব প্রাং’র ছেলে ।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক ) মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের জামুরহাটে মৃত মকবুলের চাতালে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে ১০ টাকা মূল্যে বিক্রির জন্য সরবরাহকৃত সরকারি চালের ৯৩ বস্তা (৩০ কেজি প্রতি বস্তা) চাল জব্দ করে । এসময় ঘটনার সাথে জড়িত বাবর আলীকে আটক করা হয়।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের সিংড়ার তাজপুর বাজার থেকে ভিজিডি’র ৪৩ বস্তা চাল জব্দ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চালগুলো জব্দ করা হয়। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি’র চাল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৩ বস্তা করে চাল পান কার্ডধারীরা। পরে উপকারভোগী ১৫ জনের কাছ থেকে ৪৩ বস্তা চাল ক্রয় করেন জয়নগর গ্রামের ওফিজ উদ্দিনের ছেলে আলতাফ হোসেন। সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো’র নেতৃত্বে তাজপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৪৩ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।
চালের ক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, আমি তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্ডধারীদের কাছ থেকে চাল ক্রয় করেছি। চালগুলো বিক্রির জন্য বাজারে রেখেছিলাম। এটা কোন অবৈধ চাল নয়। কার্ডধারী উপকারভোগী জয়নগর গ্রামের জুলেখা বেগম, যুথি বেগম ও রিমা বেগম বলেন, চাল মোটা হওয়ায় অন্য চালের সাথে মিশিয়ে খেতে হয়। ফলে শিশুরা খেতে পারে না বলে আমরা বিক্রি করে অন্য চাল ক্রয় করেছি। অনেক সময় সংসারের অভাব মেটানোর জন্য চাল বিক্রি করতে হয়েছে। কার্ডধারী নওগাঁ গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, প্রতি মাসে চাল দেয়ার নিয়ম। কিন্তু এবার ৩ মাস পরে দিয়েছে। আমি একটি দোকান থেকে বাঁকিতে চাল ক্রয় করে খেয়েছি। এখন এই চাল বিক্রি করে বাঁকি টাকা পরিশোধ করেছি।
তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বলেন, চাল বিক্রিকারী ১৫ জন কার্ডধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইউএনও’র মাধ্যমে তাদের কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, সরকারি কোন সুবিধাভোগের চাল ক্রয়-বিক্রয় আইনত দÐনীয় অপরাধ। চাল জব্দ করে সরকারি গোডাউনে রাখা হয়েছে। চাল ক্রেতা ব্যবসায়ী ও ভিজিডি কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।