নওগাঁ প্রতিনিধি: দুর্নীতি, অনিয়ম আর জুয়ার বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানের ভেতর এবার নওগাঁয় প্রায় ২৩ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার হলেন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক কর্মচারী। তার নাম হাসান আলী। তিনি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী পদে কর্মরত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার অফিস কক্ষের আলমারি থেকেই ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এগুলো গ্রাহকের আত্মসাত করা টাকা বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ে গত বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। গেল জুনে অডিটের সময় গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। আমানত আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ পেলে বেশকিছু সঞ্চয়ী গ্রাহকের মুনাফা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রাহকের জমা করা টাকার হদিস মিলছে না। ঘটনা জানাজানির পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে জমা দেওয়া টাকার রশিদ নিয়ে ধর্না দিতে শুরু করেন সঞ্চয় অফিসে। তখন এই আত্মসাতের সঙ্গে অফিস সহায়ক সাদ্দাম আলী জড়িত হিসেবে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২৭ জন গ্রাহকের সঞ্চয়পত্র কেনার জমা ভাউচার জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে মর্মে নওগাঁ সঞ্চয় অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সঞ্চয় কর্মকর্তা নাসির হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জুন মামলাটি দায়ের করেন। নওগাঁ সদর থানার এই মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে উচ্চমান সহকারী হাসান আলীকে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, নওগাঁ সঞ্চয় অফিসে ২০১৪ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন সাদ্দাম হোসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ করে তিনি অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর ৭ মাস অফিসে যাননি। দ্বায়িত্ব পালনকালে সাদ্দাম বেশ কিছু আমানতের হিসাবের রেকর্ড না রেখে গ্রাহককে ভুয়া সিল-স্বাক্ষরে রশিদ দেন। এভাবে সাদ্দাম ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই সাদ্দামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেই গ্রেপ্তার হলেন অফিসের আরেক কর্মচারী।
সাদ্দামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে দুদক। সংস্থাটি জানায়, অফিস সহায়ক সাদ্দামকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল রিমান্ডে নিয়েও। তখন তথ্য পাওয়া যায় যে, এই দুর্নীতির সঙ্গে অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত আছেন। আর আত্মসাত করা টাকা বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুদক জানতে পারে, কিছু টাকা হাসান আলীর আলমারিতে আছে।
এই সংবাদের ভিত্তিতে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের সার্বিক তদারকিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন গতকাল দুপুরে নওগাঁ জেলা সঞ্চয় অফিসে অভিযান চালান। এ সময় হাসান আলীর অফিসের আলমারি থেকে ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্ধার করা টাকা গ্রাহকের আত্মসাত করা টাকার অংশ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। আর এই দুর্নীতির সঙ্গে হাসান আলীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই তাকে টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার হিসেবে নওগাঁ সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। আর উদ্ধার করা টাকা নওগাঁ জেলা প্রশাসকের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়েছে।