স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। গবাদিপশুসহ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষরা। জেলা প্রশাসন পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার আরো ২৫০ দুর্গত পরিবারের জন্য শুকনা খাবার বরাদ্দ করেছে।
জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর উভয় পাড়ে গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নীচু এলাকার বাড়িঘর, ক্ষেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। ভাঙ্গছে বাড়িঘর।
গতকাল বুধবার পবার হরিয়ান ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ভাঙন ও পানিবন্দী আরো ২১২ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য চাহিদা পাঠিয়েছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু। এর আগে ওই ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যচর, খিদিরপুর ও খানপুরের দুর্গত ১৬০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণের সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরনকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়। জানা গেছে, এই বানভাসি পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার গবাদি পশু। চর ডুবে যাওয়ায় এই পশুগুলোও অনাহারে রয়েছে। এদের জন্যও খাবারের প্রয়োজন। তাছাড়া এই গবাদিপশুগুলোকে চর থেকে এপারে নিয়ে এসে নিরাপদে রাখার জায়গা পাচ্ছেননা দুর্গত মানুষরা। ইতিমেধ্যে একটি গরু হারিয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার দুর্গত পরিবারের জন্য আরো ২৫০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ/কালের মধ্যে এগুলো বিতরন হবে। ইতিপুর্বে পবায় ১৬০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরন করা হবে। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। সরকার দুর্গত মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৬৬ মিটার। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৬১ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।