এফএনএস: আগামী ডিসেম্বরে ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে এটি বাস্তবায়নে জার্মানির যে কোম্পানি কাজ করছে তারা ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে। তারপর তা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০তম অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়ায় ডিসেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ এমআরপি পাসপোর্ট লাগবে জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডে লা রিউ ইউকে’ থেকে পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জরুরি প্রয়োজনে ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বুকলেট এবং ২ মিলিয়ন লেমিনেশন ফয়েল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এতে ব্যয় হবে ৪১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এটি এমআরপি পাসপোর্টের শেষ সংস্করণ। ই-পাসপোর্ট এসে গেলে আমরা সবাইকে ই-পাসপোর্ট হস্তান্তর করবো। সেভাবে আমরা এগুচ্ছি। ই-পাসপোর্ট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ই-পাসপোর্ট জুলাইয়ে চালু করা যায়নি। জার্মানির একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সভাকে নিশ্চিত করেছেন এটি ডিসেম্বরের পরে যাবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করতে পারবেন। বিশ্বাসের হাত ধরেই বলতে পারি ডিসেম্বরের মধ্যেই ই-পাসপোর্ট পাবেন। আমরা এমআরপি পাসপোর্টের শেষের দিকে চলে এসেছি। আমরা আশা করি ডিসেম্বর থেকে সারা বিশ্ব যেভাবে পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমআরপি থেকে আমরা অ্যাডভান্স লেভেল ই-পাসপোর্টে চলে যাবো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে ই-পাসপোর্ট চালু করার কথা থাকলেও যন্ত্রপাতি সেটআপসহ বিভিন্ন ছোটখাট সমস্যা দেখা দিয়েছে। সফটওয়্যার এবং যন্ত্রপাতি সেটআপে কিছু ত্রæটি ধরা পড়ছে। ফলে অক্টোবরেও চালু করা সন্দিহান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদি হবে ই-পাসপোর্ট। দুই ক্যাটাগরির পাসপোর্টের একটি ৪৮ পৃষ্ঠার, আরেকটি ৭২ পৃষ্ঠার। যারা ৭২ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নেবে তাদের ক্ষেত্রে ফিও বেশি হবে। এরইমধ্যে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় চার হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর। ১০ বছরে মোট ৩০ মিলিয়ন পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। এর মধ্যে দুই মিলিয়ন তৈরি হবে জার্মানিতে। ফলে প্রথমে যারা আবেদন করবেন তাদের পাসপোর্ট জার্মানি থেকে তৈরি হয়ে আসবে। পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদি হবে পাসপোর্ট।