এফএনএস: বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে চায় বিশ্বব্যাংক। সরকার সে ডাকে সাড়া দিচ্ছে বলে জানিয়ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রাখতে চাই না। তারা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়টিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বব্যাংক ও ইউনাইটেড ন্যাশনসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, আজ বিশ্বব্যাংক ও ইউনাইটেড ন্যাশনসের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল এসেছে, নিরাপদ সড়ক বিষয়ে কথা বলতে। বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে হঠাৎ করে সরে গেলে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তারপর বিশ্বব্যাংক নতুন করে আবার যাতায়াত শুরু করতে চায়। তারা বিনিয়োগ করতে চায়, প্রথমে তারা নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ শুরু করতে চায়। এদের সঙ্গে ইউনাটেড ন্যাশনসও রয়েছে। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ থেকে ভোমরা ও ঝিনাইদহ থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২৬০ কিমি নতুন করে চারলেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে ঝিনাইদহ থেকে ভোমরা পর্যন্ত ১৬০ কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে। আর এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এআইডিবি) ঝিনাইদহ থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ১০০ কিমি সড়কসহ নির্মাণে অর্থায়ন করবে। তারা রোড সেফটিকে প্রাধান্য দিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন।
তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যা অর্থায়ন করা দরকার তা বিশ্বব্যাংক করবে। ইউনাইটেড ন্যাশনসও তাদের সঙ্গে অর্থায়ন করবে। ৩ বছরের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের রোড সেফটির বিষয়টিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারবেন বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাদের ফান্ডিং ভিন্ন, কিন্তু কাজ করবে একসঙ্গে। সড়কে যে বিশৃঙ্খলা আছে, কখনও কখনো নাজুক অবস্থা সেখানে তারা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চায়, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রাখতে চাই না। আগে যা হওযার হয়ে গেছে। আমরা তাদের নতুন প্রপোজালে সাড়া দিচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কাজ করবে। তারা বলেছে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা নতুন করে কাজ করবে। তারা পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করে ভুল করেছে সেটা তারা স্বীকার করেছে। মন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহ থেকে ভোমরা ও ঝিনাইদহ থেকে হাটিকুমরুল সড়ক চারলেন করবে বিশ্বব্যাংক ও এআইডিবি। এখানে কী পরিমাণ অর্থায়ন বা বিনিয়োগ করবে সেটা তারা এখনও জানায়নি। তারা বিভিন্ন কাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। আমরা অ্যাপ্রæভ করলে বিশ্বব্যাংক থেকেও অ্যাপ্রæভ লাগবে। যা যা লাগবে সবকিছু নিয়েই কাজ করবে। যে সহায়তা দরকার তা তারা নেবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে জানতে চেয়েছে, কিভাবে আমরা প্ল্যান করছি। আমাদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে তারা সহযোগিতা করবে। তারা দলীয় কাউন্সিলে নারী প্রতিনিধিত্ব আরো বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছি।
ক্যসিনো বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজের ঘর থেকেই অভিযান শুরু করেছি। বেশ কিছু নেতা নজরদারিতে রয়েছেন। অপকর্ম করলে কেউ-ই ছাড় পাবে না। ক্যাসিনো নিয়ে সরকারের পলিসি কী -এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ক্যাসিনো বিষয়ে এখন হাঙ্গামা চলছে। এ সময় ক্যাসিনো নীতিমালার মধ্যে এনে চালু করা হবে, নাকি একেবারেই পুরো আইডিয়াটা বাদ দেওয়া হবে, এ বিষয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলাপ হয়নি। তবে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কোনো ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু সেটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। কাজেই এ বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তো সবাই আওয়ামী লীগের নেতা। বাদ কোথায়? আগে কোন দল ছিল, সেটা বলে তো লাভ নেই। আমি আমার দলে নিলাম কেন? এখন সে আমার দলের পরিচয় ব্যবহার করছে। কাজেই আমি ঘর থেকেই অভিযান শুরু করেছি। নেতাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, বাইরে যাওযার ব্যাপারে কত জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা হয়েছে সেই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বেশ কিছু নেতা নজরদারিতে রয়েছেন। নজরদারিতে যদি বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকে, তাহলে সেটি মানতে হবে। তবে কতজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সেই সংখ্যাটা আমি জানি না।
বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল কাউন্সিলিং বিষয়ে কী বলেছে?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলটি আমাদের জাতীয় কাউন্সিলিং নিয়ে পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে আমরা তাদের জানিয়েছি। তারা কাউন্সিলিংয়ে নেতাদের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কিনা, কেন্দ্রীয়ভাবে নারীদের কতটুকু প্রধান্য দেওয়া হবে, নারীদের ক্ষমতায়ন আরও বাড়বে কিনা, এগুলো জানতে চেয়েছেন। আগেও কাউন্সিলিং অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বিষয়ে তারা সহযোগিতা করেছেন। এবারও তারা করবেন। এবার তারা গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।