এফএনএস: ঢাকার মিরপুরে শপিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্ট ও কার পার্কিং এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়া দোকান নির্মাণ করার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ও উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত টিম রাজউক জোন-৩ এর অথরাইজড কর্মকর্তা মুকিদ ইহসান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিনটি মার্কেটে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্স, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্স ও বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্ট, কার পার্কিং এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়া দোকান নির্মাণ করে পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। যানবাহন পার্কিং করার জন্য নির্ধারিত জায়গায় দোকানপাট নির্মাণ করায় আগত ক্রেতারা রাস্তার ওপর তাদের যানবাহন পার্কিং করে রাখছেন। ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বা তৎপরতা না থাকার কারণে এ তিনটি মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেটের কার পার্কিং এলাকায় অবৈধ দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রি ও ভাড়া দেয়া হয়েছে মর্মে দুদক টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদিত নকশার অতিরিক্ত অংশজুড়ে অনেক মার্কেট নির্মিত হয়েছে বলে জানতে পারে দুদক। এসব নকশা বহির্ভূত অংশ এবং কার পার্কিং এরিয়া থেকে দোকান উচ্ছেদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক টিমের পক্ষ রাজউকের অথরাইজড অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এদিকে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ভুয়া জন্ম তারিখ দিয়ে চাকরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।
দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, একজন মুক্তিযোদ্ধা আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ১৯৭৪ সালে জন্ম তারিখ দেখিয়ে চাকরি করছেন। এর প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গতকাল মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। সরেজমিন অভিযানে দুদক টিম অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। টিম জানতে পারে, ওই কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু টিমের সংগৃহীত নথিপত্রে তার জন্ম তারিখ ৫ মার্চ ১৯৭৪ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে দুদক। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, কমলগঞ্জ উপজেলার হাটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে এর সত্যতা পায়। টিম এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বললে তারাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরেজমিন অভিযানে দুদক টিমের কাছে নির্মাণের মাত্র ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। তবে বরাদ্দ বাজেটের (প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকা) সিংহভাগ পরিশোধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। সার্বিক বিবেচনায় এ কাজের তদারকিতে এলজিইডির প্রকৌশলীর দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে মর্মে দুদক টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। কাজের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই বিল পরিশোধের জন্য প্রকৌশলীকে পরামর্শ প্রদান করে দুদক টিম। এ নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে অভিযান পরিচালনাকারী টিম কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।
এছাড়া সড়ক বিভাগ, বরগুনার রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যথাক্রমে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী এবং সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট থেকে দুটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।