দুর্গাপুর প্রতিনিধি: দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি’র রাজনীতিতে লবিং-গ্রæপিং ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক সভায় পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত কথিত শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রধান আসামি মোল্লা আব্দুল ওয়াহেদকে। জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে মোল্লা আব্দুল ওয়াহেদের নাম ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ চাঁদের এ সিদ্ধান্ততে মেনে নিতে পারছে না নি উপজেলা ও পৌর বিএনপির একটি অংশের নেতারা। তারা ওইদিনই আলাদা সভা করে আবু সাঈদ চাঁদের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কমিটি গঠন নিয়ে আনেক আগে থেকেই সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম মÐলের মধ্যে দ্ব›দ্ব চলে আসছিল। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। দীর্ঘদিন এ দ্বন্দের আগুন নিভে থাকলেও ওই আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। মূলত এরপর থেকেই দ্বন্দ আরো প্রকট হয়ে উঠেছে দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র রাজনীতিতে।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন থেকে পরপর দু বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অ্যাড. নাদিম মোস্তফা। ওই সময় তিনি এই দুই উপজেলার কমিটিগুলোর নেতৃত্বে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে তাদের পদ দেন। টানা ১০ বছর তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে দলের একটি অংশ একাধিকবার গ্রæপিং’র চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসলে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করেন নাদিম মোস্তফা। এরপর থেকেই এই দুই উপজেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকেন পুঠিয়ার নজরুল ইসলাম মÐল। পুঠিয়া উপজেলার পাশেই চারঘাট উপজেলায় আবু সাঈদ চাঁদের বাড়ি হওয়ার সুবাদে বিএনপি নেতা চাঁদও নজরুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে সার্পোট দিতে থাকেন। নজরুল এবং চাঁদের মিশন ছিল নাদিম মোস্তফাকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করা। এ মিশনে এখন অনেকটাই সফল আবু সাঈদ চাঁদ ও নজরুল ইসলাম মÐল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে সভা আহবান করা হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করার থাকলেও সভায় উপস্থিত ছিলেন না উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি গোলাম সাকলাইন। সভায় প্রধান অতিথি থেকে দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর শাখার পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক করা হয়েছে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত শান্তি কমিটির দুর্গাপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও মানবতবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রধান আসামি মোল্লা আব্দুল ওয়াহেদকে। আর পৌর বিএনপি’র আহবায়ক করা হয়েছে বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান লাল্টুকে। এই দুই নেতাই এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এখন তারাই উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র হর্তাকর্তা। এমনকি এই দুই নেতাই নাদিম হটাও আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান লাল্টুকে নিয়ে তেমন কোনো আপত্তি না থাকলেও মোল্লা আব্দুল ওয়াহেদকে নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র নেতাদের।
ওইদিন সন্ধ্যায় পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মÐলের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় আবু সাঈদ চাঁদের ওই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে পুনরায় কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণাও দেয়া হয়। উপজেলা বিএনপি’র একজন সাবেক সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোল্লা আব্দুল ওয়াহেদ একজন চিহ্নিত রাজাকার। এটা সকলেই জানেন। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলাও রয়েছে। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। তারপরও তাকে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক করা হয় কীভাবে। দলকে বিতর্কিত করতেই কি আবু সাঈদ চাঁদের এই অপপ্রয়াস।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ দাবি করেন, এখনো আহবায়ক চূড়ান্ত করা হয়নি। ওই দিনের সভায় প্রস্তাবিত নেতাদের নামগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় থাকা নামের মধ্যে থেকে একজন নেতাকে আহবায়ক হিসেবে মনোনীত করা হবে।