স্টাফ রিপোর্টার: গত এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে এবং ভাঙন দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুসহ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে চর খানপুর ও খিদিরপুরের শতাধিক পরিবার। অনেকে বাড়ির আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে নৌকায় করে পাড়ে উঠলে ঘাট ইজারাদার দাবী করছে বাড়তি টাকা। গতকাল সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত ১শ’ ৬০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছে প্রশাসন।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার পবার হরিয়ান ইউনিয়নের নদী ভাঙন ও পানিবন্দীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের মধ্যচর, খিদিরপুর ও খানপুরের ১শ’৬০জনের মধ্যে ত্রাণের এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নগরীর পঞ্চবটি ও বটতলায় পদ্মা নদীর ধারে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য কহিনুর বেগম, গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নদী ভাঙন ও পানিবন্দী জনগণ। প্রত্যেকের মধ্যে বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, চিড়া, চিনি, বিস্কুট, মোমবাতি ও দিয়াশলায়।
চেয়ারম্যান জানান, আরও ২০৫ পরিবারের জন্য ত্রাণের চাহিদা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো পাওয়া গেলে শীঘ্রই বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই বানভাসি পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার গবাদি পশু। চর ডুবে যাওয়ায় এই পশুগুলোও অনাহারে রয়েছে। এদের জন্যও খাবারসহ প্রয়োজনী সাহায্য সহযোগিতা দরকার।
এদিকে, অসহায় পরিবারগুলোর অনেকে চর থেকে বাড়ির আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে নৌকায় করে এপারে এসে উঠছে। এই পরিবারগুলো নৌকা ভাড়া দিতেই যেখানে হিমসিম খাচ্ছে। তার উপর জাহাজ ঘাটের ইজারাদার আসবাবপত্র ও গবাদিপশুর জন্য বাড়তি টোল দাবী করায় তারা হতাশ। এই অসহায় মানুষগুলোর ঘাটের টোল মাফ করার দাবী জানিয়েছেন সচেতনমহল।
পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পদ্মার উভয় পাড়ে গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, মধ্যচর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। নীচু এলাকার বাড়িঘর, খেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আমন, আগাম সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পদ্মা নদীর পানি আবারো বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৬১ মিটার। গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৫১ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার মাত্র ৮৯ সেন্টিমিটার নিচে।