স্টাফ রিপোর্টার: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে হাত হারানো রাজশাহী কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফিরোজ সরদার মধুমতি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বরর) ব্যাংকের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ফিরোজ সরদারকে ‘ট্রেইনি অ্যাসিসটেন্ট অফিসার’ পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
গতকাল রোববার তিনি এ পদে ঢাকায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। সন্ধ্যায় ফিরোজ নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ফিরোজের হাত হারানোর সংবাদ দেখে তাকে চাকরি দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে মধুমতি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে একজন কর্মকর্তা রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানের মাধ্যমে ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেলেন ফিরোজ সরদার। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক, মধুমতি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আযম প্রমুখ। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে ফিরোজ সরদারকে এই চাকরি দেওয়া হলো। ব্যাংক তার চিকিৎসার জন্য অগ্রিম আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেয়।
যোগদান করার পর ফিরোজ সরদার বলেন, আপাতত তাকে প্রধান কার্যালয়েই বসতে হবে। চাকরিজীবনে তিনি যেন তার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান। এছাড়া গণমাধ্যমে তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরার কারণে তিনি সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফিরোজের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার নামোইট মহল্লায়। গত ২৮ জুন সকালে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য রাজশাহী থেকে বগুড়ায় যান। বিকালে বগুড়া থেকে ফেরার সময় রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি এলাকায় বিপরীত দিকের একটি ট্রাকের চাপায় তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে পড়ে যায়।
এরপর তিনি ১৪ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফিরোজের এ দুর্ঘটনায় ২৯ জুলাই রাজশাহীর কাটাখালি থানায় মামলা করেন তার বাবা মাহফুজুর রহমান। এরপর ‘মোহাম্মদ পরিবহন’ নামের বাসের চালক ফারুক হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জব্দ করা হয় দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও ট্রাক। তবে ট্রাকচালক এখনও পলাতক।