স্টাফ রিপোর্টার: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) মাদক ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে একদল মাদক ব্যবসায়ী লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এক কৃষককে গুরুতর আহত করেছে। আহত ব্যক্তির নাম বারসেদ আলী (৩৫)।
তার বাবার নাম মোয়াজ্জেম হোসেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাদিয়াদহ ইউনিয়নের চরকানাপাড়া গ্রামে গতকাল রোববার দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। আহত বারসেদকে বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও বারসেদের স্বজনরা জানান, কয়েকদিন আগে চরআষাড়িয়াদহ সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের একটি চালান জব্দ করে বিজিবি। বিজিবিকে গোপনে খবর দিয়ে এসব মাদক আটক করানোর অভিযোগ এনে স্থানীয় মাদকচক্রের কয়েকজন ঘটনার পর থেকে বারসেদের কাছে মাদকের মূল্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও করা হয়।
এদিকে রোববার দুপুরের দিকে বারসেদ আলী চরকানাপাড়া বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসকের দোকানে ওষুধ কিনতে যান। এ সময় চোরাকারবারী দলের হোতা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান, নৈয়ব আলীর ছেলে তালেম আলী, তৈয়ব আলীর ছেলে নয়ন আলী, মোসলেম আলীর ছেলে এবাদুল ও আনেছ আলীর ছেলে মতির নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বারসেদ আলীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা পিটিয়ে বারসেদের কোমর থেকে দুই পায়ের পাতা পর্যন্ত ক্ষত-বিক্ষত করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
মাদক কারবারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে বারসেদকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। পরে এলাকাবাসী বারসেদকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে রামেক হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শক্ত লাঠি বা লোহার রড দিয়ে বারসেদের দুই পা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতেই তার দুই পায়ে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হবে। বারসেদ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বারসেদের স্বজনরা ফোনে তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।