চারঘাট প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাটে একটি পুকুর থেকে জীবন্ত একটি কুমিরকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্য ও প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও চারঘাট ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দুটি দল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে রোববার বিকাল সাড়ে পাচঁটার দিকে কুমিরটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। নদীতে থাকা কুমির ডাঙায় চলে আসার খবরে আশে পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ কুমির দেখতে ভিড় জমাতে থাকে পুকুরপাড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জনতার ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। তবে কুমিরটি কারো কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি।
পুকুরপাড়ের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে প্রত্যক্ষদর্শী মনিমুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৭ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে পুকুরে দিকে তাকাতেই দেখি একটি কুমির মাঝে মাঝে মাথা উচু করে পাড়ের দিকে আসছে। এসময় চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তারাও দেখতে পায় কুমিরটিকে। সংবাদ দেয়া হয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় প্রশাসনকে। দ্রæত ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ফকরুল ইসলাম।
এরপর বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রাজশাহীর বন্য ও প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এরপর দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে জীবন্ত কুমিরটিকে উদ্ধার করেন তারা।
বন্য ও প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর জানান, এক ধরনের কুমির থাকার কথা লোনা পানিতে অর্থাৎ সাগরে। আর আরেক ধরনের কুমির থাকার কথা মিঠা পানি অর্থাৎ নদীতে। তবে উদ্ধার হওয়া কুমিরটি মিঠা পানি অর্থাৎ পদ্মায় থাকার কথা। কিন্তু পথভ্রষ্ট হয়ে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ক্যানেল দিয়ে প্রাণীটি ডাঙায় চলে এসেছে বলে ধারনা। রাতের আধারে এসে ক্যানেল থেকে পুকুরের পানিতে নেমে গেছে। সৌভাগ্য বিষাক্ত প্রাণীটি কারো কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। তবে যে কোন সময় ক্ষতি করতে পারতো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, কুমির ডাঙায় চলে আসার খবর শুনে তাৎক্ষনিত সময়ে বন্য ও প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সংবাদ দিয়ে তাদের চেষ্টায় অক্ষ্যত অবস্থায় কুমিরটি উদ্ধার করা হয়েছে। বন্য প্রানীটি বন্য ও প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ফকরুল ইসলাম বলেন, পানিতে থাকা কুমির ডাঙায় এসে কোন ,মানুষের ক্ষতি করেনি এটাই মহান আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া। যেভাবে কুমিরের সংবাদ শুনে লাখো জনতা ভিড় করছিল তাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।