স্টাফ রিপোর্টার: আবারো ফুঁসে উঠেছে পদ্মা নদী। গেল এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার প্রবেশদ্বার রাজশাহী অঞ্চলে হু হু করে নদীর পানি বাড়ছে। গঙ্গা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ফারাক্কা বাঁধের বেশ কয়েকটি গেট খুলে দেয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার চরে ভাঙন ও নি¤œাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৩৮ মিটার। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ২২ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সে অনুযায়ী পানি এখন বিপদসীমার ১ দশমিক ১২ মিটার নিচে।
পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পদ্মার নদীর উভয় পাড়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবার চর মাঝারদিয়াড়, চরখিদিরপুর, খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর খানপুর এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকের বসতবাড়িও প্লাবিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। নদীর পাড় ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মার পানি। মধ্যচরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বন্যার আশঙ্কায় পড়েছেন পদ্মা নদী পাড়ের বাসিন্দারা। নীচু এলাকার বাড়িঘর, ক্ষেতের ফসলের মধ্যে মাসকালাই, আগাম সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদিপশু রয়েছে। পদ্মার চরের নি¤œাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।
গত ১৭ বছরে রাজশাহীতে পদ্মার পানি প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মাত্র দু’বার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। এরপর পানি বাড়লেও আর ওই রেকর্ড ভাঙেনি।
বর্ষা শেষে এ বছর যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে পানি বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, এখন ফারাক্কা বাঁধের গেট খোলা রয়েছে। তাই পদ্মা নদীতে পানি বাড়ছে। বিপদসীমাও অতিক্রম করতে পারে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে এ সপ্তাহের শেষ অথবা সামনে সপ্তাহের প্রথম দিকে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়েছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া বন্যার আশঙ্কায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই প্রতিটি উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। আরও প্রয়োজন হলে তা পাঠানো হবে।