স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীদের খাবারে বাসি-পচা খাবারসহ খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবি ও অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে গতকাল শনিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচি থেকে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত, রাজশাহীতে পাইপ লাইনে অবিলম্বে গ্যাসের পূর্ণ সংযোগ দেওয়ারও দাবি জাননো হয়। এছাড়া রাজশাহী জেলা ও মহানগরে গড়ে উঠা মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নগরীর নিউমার্কেট থেকে সড়ক ফুটপাত দুখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘণ্টব্যাপী এ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান, পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক পরিচালক হারুনার রশিদ, একাত্তরের গেরিলা মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, প্রকৌশলী খাজা তারেক, অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, অধ্যাপক জিএম হারুন, নারী উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম, মাওলানা মাকছুদ উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, রাজশাহী ফটোসাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, আদিবাসী নেতা সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, শ্রমিক নেতা শাহীন শেখ, ছাত্রনেতা একেএম জুবায়েদ হোসেন জিতু, সৌরভ হোসেন, নারী নেত্রী শাহানাজ পারভীন সাগরিকা, অরুনা আকতার চাইনা প্রমুখ।
সমাবেশে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এখন চিকিৎসাসেবার পরিবর্তে অপচিকিৎসালয়ে পরিণত হয়েছে। রোগীরা চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে নার্স, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের হাতে নাজেহাল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিকারের কথা বলতে গেলে রোগী ও তার স্বজনরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধ করে রোগীবান্ধব হাসপাতালের দাবি জানান তিনি।
জামাত খান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার তা নিশ্চিত করতে হবে। রামেক হাসপাতাল পরিচালক ও পর্ষদের ব্যর্থ সদস্য সচিবসহ মেডিকেলের ওষুধ চুরি, টেন্ডারবাজির কারণে সভা থেকে হাসপাতাল পরিচালকের অপসারণও দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে যেসব চিকিৎসক হাসপাতালে আঁকড়ে আছেন তাদের অবিলম্বে বদলীর দাবিও জানান তিনি।
জামাত খান বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী নগরী ও জেলার আনাচে-কানাচে মাদকের অবাধ বাণিজ্য চলছে। এর পেছনে বড় বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাদকের গড়ফাদারার আইনের আওতায় আসছে না। এ কারণে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের আগ্রাসন। তাই মাদকের গডফাদারদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে ২০১৩ সালে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ষড়যন্ত্র করে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমাবেশ থেকে রাজশাহী নগরীতে আবারো গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি রাজশাহীতে সড়ক সংস্কারের নামে সড়কের গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে কাকনহাট হয়ে আমনূরা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রাস্তার দুই হাজার গাছ নিধন করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, সরকার যেখানে বার বার সবুজায়ন করার চেষ্টা করছে সেখানে রাজশাহীজুড়ে অবাধে বৃক্ষ নিধন করে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। যদি না হয় তাহলে অবিলম্বে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারীও দেওয়া হয়েছে।