বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে একই ঘটনা প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাবি সাংবাদিকরা প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় উপাচার্য নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করে সাংবাদিকেরা বিভিন্ন ¯েøাগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকালে তারা ‘সাংবাদিকের উপর হামলা কেন’, ‘উপাচার্য নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ চাই’, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা কেন’ সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচি চলাকালে মতিহার থানা পুলিশ কর্মসূচিতে বাঁধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে সাংবাদিকরা। পুলিশি বাধার মুখে এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা সড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে আসে। ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি প্রধান ফটকের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করে সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকেরা বলেন, বশেমুরবিপ্রবি-তে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনায় সাংবাদিক জিনিয়াকেও বহিষ্কার করা হয়। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণে তার বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে এই উপাচার্য স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছে। একজন শিক্ষকের আচরণ এমন হলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কী শিখবে? এ সময় তারা উপাচার্যের দ্রæত পদত্যাগ দাবি করেন। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেন সাংবাদিকেরা।
সাংবাদিকদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলেছি। তাদের কর্মসূচিতে কোনো প্রকার বাধা দেওয়া হয় নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ সড়ক ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়। সড়ক না ছেড়ে দিলে যেকোনো ধরনের অ্যাকশন নেওয়ারও হুমকি দেয় তারা। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সাংবাদিকেরা কর্মসূচি পালন করবে আমাকে জানিয়েছিল। সেখানে যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে হয় সেজন্য আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলাম।
এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।