স্টাফ রিপোর্টার: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার পবা উপজেলার হরিপুর ও হরিয়ান ইউনিয়নের চরাঞ্চল খোলাবোনা, পুরাতন কসবা, বেলুয়ার চর, চর মাঝারদিয়াড়, চর খিদিরপুর, চর খানপুরের নীচু এলাকার মাসকালাই, আগাম সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। এতে চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পানি কমতে থাকায় পদ্মার চর এলাকায় চাষিরা শীতের আগাম সবজি টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, মাসকলাইসহ অন্যান্য আবাদ শুরু করে। গত সপ্তাহ থেকে উজানের পানি এসে পদ্মার পানি দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। এই অবস্থায় একদিকে ভাঙন অন্যদিকে নতুন করে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন চাষিরা। গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির বিপদ সীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। প্রতিদিনই প্রায় ২০-২৫ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আকস্মিক নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে পদ্মাপাড়ের মানুষরা। স¤প্রতি বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবারও বন্যার মুখে পড়েছে তারা। অনেকে সর্বস্ব বিক্রি করে লাভের আশায় শীতের আগাম সবজি চাষ করেছেন। শীতের আগাম সবজি বাঁধাকপি, টমেটো, পিঁয়াজ ও লালশাক তলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা।
পবার খোলাবোনার চর এলাকায় গিয়ে দখা যায় চাষি দুলাল হোসেন তার রোপিত ডুবে যাওয়া পিঁয়াজ সংগ্রহ করছেন। দুলাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর এই চরে ব্যাপক পরিমান শীতের আগাম বাঁধাকপি, টমেটোর আবাদ হয়ে থাকে। এই সময়ে সাধারণত পদ্মার পানি বাড়ে না। কিন্তু এবার আলাদা। তিনি বলেন, তার ৫ বিঘা জমিতে টমেটো রোপন করেছিলেন। যার বেশীরভাগ তলিয়ে গেছে। তার মত ওই এলাকার টি-আলম ৪ বিঘা, নাজমুল করিম ১০ বিঘা, সাবান আলী ১৫ বিঘা জমিতে শীতের আগাম বাঁধাকপি, টমেটো, লালশাক করেছেন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশীরভাগ জমি পানিতে তলিয়ে নস্ট হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তাদের মত এলাকার সবজি চাষি হযরত আলী, কাবিল উদ্দিন, ফয়সাল, শামীম, আসাদুল, গোলাপ আলী, ওদুদ, ইসাহাক প্রত্যেকের সবজি তলিয়ে গেছে। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, পদ্মার পানি দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পাওয়াতে তার ইউনিয়নের সবজি আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মানবেতর জীবন যাপন করবে ভুক্তভোগি চাষিরা। চরের এসব আবাদের ওপরই তাদের জীবন-জীবিকা। পানি নেমে যাবার সাথে সাথে চাষিরা যাতে ঘুরে দাড়াতে পারে এজন্য তিনি সরকারি সহায়তা কামনা করেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর একটি সূত্র জানায়, গত ২৬ আগষ্ট রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৭১ মিটার। এরপর পানি কমতে থাকে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৩৮ মিটারে। এরপর পুনরায় পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গতকাল শানবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পদ্মা নদীর উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২২ মিটার, যা চলতি মওসুমে সর্বোচ্চ। রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার, যা এখনো ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচে রয়েছে।