তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী নগরীর মোড়ে মোড়ে ফুটপাত ও রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ভাজা হচ্ছে এবং ঢাকনা ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাবার। এতে রাস্তার ধূলাবালি ও ময়লা এসে পড়ছে। মানুষের মাঝে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।
শিককাবাব, চপ, পিয়াজী, বেগুনি, নুডলস, চটপটি, হালিম, কোপতা, বার্গারসহ বিক্রি হচ্ছে ভাজা পোড়া এ সব খাবার। আরও বিক্রি হচ্ছে চিকেন সাসলিক, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিকেন ফ্রাই। গোটা নগর জুড়েই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই সব খাবার বেচাবিক্রি চলছে অবাধে। এসব যে তেল দিয়ে ভাজা হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও ক্রেতারা হাসিমূখে সে সব খাদ্য খেয়ে চলেছেন।
একই ভাবে ঢাকনা ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে আখের রস। এতে মশা মাছ এসে বসছে। এর পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে ঘোল। পানি মিশিয়ে এক হাঁড়ির ঘোল হয়ে যাচ্ছে কয়েক হাঁড়ি। এতে সাধারণ মানুষ ঠকছে, খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে। এখন চলছে ভ্যাপসা গরম। এই গরমে তৃষ্ণার্তদের কাছে বিক্রি হচ্ছে লেবু আর কেমিক্যালস মিশিয়ে সরবত। এসব সরবত খেয়ে অনেকেই সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
নগরীর জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন হুনুমান জীওর আখড়া ও চিলিসের সামনে হতে জিরো পয়েন্ট, বড় মসজিদের সামনে,মনিচত্বর, আলুপট্টি গোরহাঙ্গা রেলগেট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে, নিউমার্কেটের লক্ষীপুর মোড়, ভদ্রা মোড়, বিনোদপুর বাজার, উপশহর, রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনাল অর্থাৎ কাশিয়াডঙ্গা থেকে বিনোদপুর, পদ্মার ধার থেকে নওদাপাড়া সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার।
এই সব ভাজাপোড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ভোক্তারা।
বিকাল হলেই বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতা দোকানদারগণ। আর নগরীর সকল ছাত্রছাত্রী যুবক,পথচারি সবাই মিলে এসব খাবার দেদারসে খাচ্ছেন। এই সুযোগে জাঁকিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।
ফুটপাত ও রাস্তার ওপর ঢাকনা ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে এসব খাবার। এতে এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও চিন্তা করছে না কেউ।
এ সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চিন্ময়কান্তি দাস বলেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে যে হারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষক্ত ফাসফুড বিক্রি হচ্ছে এতে মানুষ বøাডপ্রেসার,ক্যান্সার,কিডনি ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরী।