এফএনএস: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক গৃহবধূ ও তার দুই মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিআইখোলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছয়তলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক আজিজুল হক জানান।
নিহতরা হলেন, নাজনীন (২৬) এবং তার দুই মেয়ে নুসরাত (৮) খাদিজা (২)। এছাড়া এ ঘটনায় আহত সুমাইয়া (১৫) নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সকালে স’ানীয়দের কাছে খবর পেয়ে একই পরিবারের তিনজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পরিদর্শক আজিজুল জানান। জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হার্বনর রশিদ বলেন, নাসরিনের বোনের জামাই আব্বাসের সঙ্গে সুমনদের পরিবারের কলহ চলছিল। এর জেরে আব্বাস এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে আব্বাস পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। আব্বাসের বাড়ি একই এলাকায় বলে জানায় পুলিশ। জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্বাস মাদক সেবন করে প্রায়ই তার স্ত্রী ইয়াসমিন ও প্রতিবন্ধী সন্তান সুমাইয়াকে (১৫) মারধর করতেন। তার অত্যাচার থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে বোন নাজনীন বেগমের ভাড়া বাসায় চলে গিয়েছিলেন ইয়াসমিন। কিন’ আব্বাস সেখানে গিয়ে বিরোধের জেরে গলা কেটে হত্যা করেন নাজনীন এবং তার দুই মেয়ে নুসরাত ও খাদিজাকে। এমনকি সুমাইয়াকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন আব্বাস। ইয়াসমিন জানান, তিনি আদমজী ইপিজেডে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার স্বামী আব্বাস মিয়া মাদকাসক্ত। প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে মারধরের কারণে তাকে নিয়ে গত বুধবার রাতে ছোট বোন নাজনীনের বাসায় চলে আসেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি বাসা থেকে বের কারখানায় যান। এরপরই হত্যাকা-টি ঘটান আব্বাস। ইয়াসমিনের ছোট ভাই হাসান জানান, ইয়াসমিন তার মেয়েকে নিয়ে নাজনীনের বাসায় চলে আসার পর আব্বাসও রাতে এই বাসায় চলে আসেন। কিন’ ইয়াসমিন কারখানায় চলে গেলে কলহের বিষয়গুলো নিয়ে শ্যালিকার সঙ্গে বিবাদে জড়ান আব্বাস। এরপর তিনি তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং নিজের মেয়েকেও কুপিয়ে জখম করেন। হাসান তার বোন হত্যার বিচার দাবি করেছেন এবং অভিযুক্ত আব্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। নাজনীনের স্বামী সুমন বলেন, প্রতিদিনের মতই আমি কাজে গিয়েছিলাম। আমি একটি পেট্রোল পাম্পে ডিউটি করি। কাজ শেষ হলে সকাল ১০টায় বাড়ি ফিরি আর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পাই। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি বউ আর দুই মেয়ের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ। সুমাইয়াও রক্তাক্ত অবস’ায় ঘরে পড়েছিল। ঘটনাস’ল পরিদর্শন করে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হার্বন অর রশীদ বলেন, আব্বাসের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জিদ করে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় চলে আসেন তার স্ত্রী। তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সকালে তিনি কারখানায় চলে যান। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোনো বিরোধের জের ধরেই তাকে ও তার দু’মেয়েকে হত্যা করেন আব্বাস। নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেন তিনি। তবে আব্বাসকে ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। আশা করছি, খুব দ্র্বতই হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।