স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি শিৰা প্রতিষ্ঠান। এখানে দীর্ঘ সময় ধরেই মাদ্রাসার কোনো পাঠ্যক্রম ছিলো না। কিন’ নামের সঙ্গে ছিল ‘মাদ্রাসা’। এ নিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছিলেন প্রাক্তন এবং বর্তমান শিৰার্থী। সম্প্রতি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করেছে শিৰা মন্ত্রণালয়।
এখন এর নাম ‘হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’। আগে নাম ছিল ‘রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা’। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জানিয়েছেন, রাজশাহীর সুধিসমাজ, প্রতিষ্ঠানটির শিৰক-শিৰার্থী এবং অভিভাবকদের দাবির প্রেৰিতে তার চার বছরের প্রচেষ্টার পর এর নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সবার দাবি পূরণ করতে পেরে তার ভাল লাগছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। শিৰা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স’ায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের শিৰক-শিৰার্থী থেকে শুর্ব করে অভিভাবকসহ সবার দাবি ছিল নাম পরিবর্তন করার। তাই চার বছর ধরে আমাকে কষ্ট করে কর্মকর্তাদের বোঝাতে হয়েছে যে, এটি মাদ্রাসা নয়, এটি একটি সাধারণ স্কুল। নাম পরিবর্তন করার গুর্বত্ব বোঝানোর পর তারা অনুমতি দিয়েছেন। ফলে এখন এই স্কুলের শিৰার্থীদের সার্টিফিকেট নিয়ে আর কোন বিতর্ক থাকবে না।
তিনি বলেন, শিৰা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন আমি সবসময় সর্বোচ্চ গুর্বত্ব দিয়ে দেখি। শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর পৰে থেকে আমাকে যখন যে ধরনের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে আমি তখন সেই ধরনের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়েছে। এখন অন্যান্য সরকারি স্কুলের শিৰার্থীদের মতোই এখানকার শিৰার্থীরা মর্যাদা পাবে। তাদের আর কেউ মাদ্রাসার শিৰার্থী বলে অবহেলা করতে পারবে না।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, শিৰা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেই কাজ শেষ হয়নি, বরং শুর্ব হলো। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরাও যেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ভাল পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার সেগুলো আমি করবো। ইতিমধ্যেই ছয়তলা একটি ভবনের অনুমোদন করিয়েছি। আরো একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবনের কাজগুলো শেষ হলে শিৰার্থীরা সুন্দর পরিবেশে পড়াশুনা করতে পারবে।
রাজশাহী সদরের টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য বলেন, শুধু ভবন নয়, এর পাশাপাশি পুরনো শ্রেণিকৰগুলো ঠিক করতে হবে। এর সাথে খেলার মাঠ ঠিক করতে হবে, যাতে শিৰার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে পারে এবং তাদের মানসিক বিকাশ হয়। পড়াশোনা এবং খেলাধুলায় রাজশাহীর ছেলে-মেয়েরা দেশসেরা হয়। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।
এ সময় হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিৰিক হুসনে আরা বেগম, সহকারী শিৰিক জোবাইদা খাতুন, মামুনুর রহমান রানাসহ অন্যান্য শিৰক ও শিৰার্থীরা উপসি’ত ছিলেন।