এফএনএস: পাবনার পর এবার লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধর্ষকের সঙ্গে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম এই বিয়ের আয়োজন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বাল্যবিবাহ হওয়ায় কোনো দালিলিক প্রমাণ রাখেনি স’ানীয় কাজি অফিস।
এদিকে বিয়ের কয়েকদিন পর বর ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রীর পরিবারকে জানানো হয়, বিয়েতে কোনো কাবিননামা সই হয়নি। তাই বর ও কনের তালাক হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত রোববার ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি লিখিতভাবে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানায়। একই দিন ডাকযোগে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকেও জানানো হয়েছে ঘটনাটি। অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার শাহীন আলম (২৪) নামে এক যুবক ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ওই ছাত্রী রাজি না হওয়ায় শাহীন তার ছবি সম্পাদনা করে আপত্তিকর ভিডিও বানান। এরপর অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
এতে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে শাহীন আলম ওই ছাত্রীকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। গত ২৫ জুলাই লালমনিরহাট শহরের একটি ক্লিনিকে তার গর্ভপাত করা হয়। এরপর শাহীন তাকে ক্লিনিকে রেখে পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে এসে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ১১ আগস্ট ওই ছাত্রীর বাবা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর থানার এসআই মাইনুল ইসলাম কিশোরীকে শাহীনের সঙ্গে বিয়ের পরামর্শ দেন। এর পর এসআই মাইনুলের নির্দেশে গত ২৩ আগস্ট মহেন্দ্রনগরের কাজি অফিসে তাদের বিয়ে হয়। কিন’ বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কোনো কাবিননামা করা হয়নি। পরে কাজি শহীদুল ইসলাম মেয়ের বাবাকে জানান, মেয়ের বয়স কম, তাই কাবিননামা এখন দেওয়া সম্ভব নয়। পরে কাবিননামা তুলে নেওয়া হবে।
এর কয়েক দিন পর শাহীন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়েতে কোনো কাবিননামা সই হয়নি। তাই শাহীনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর তালাক হয়ে গেছে। তবে অভিযুক্ত শাহীন আলম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসআই স্যার আমাকে বিয়ে করতে বলেছিলেন, তাই করেছি। এ বিষয়ে এসআই মাইনুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন না। সদর থানার ওসি মাহফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পর বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তবে কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলে গ্রামবাসীর পরামর্শে মাইনুল ইসলাম বিয়ের কথা বলেছিলেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। এর আগে পাবনায় গণধর্ষণের শিকার এক নারীর সঙ্গে ধর্ষকদের একজনের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত মাসে ৩৩ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকদের একজনের সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করেন ওসি ওবাইদুল। এই বিয়ের আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য ভিকটিমকে পুরোনো তারিখের একটি তালাকনামাতেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় তখন।