স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের আকলিমা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে (২৫) গলা কেটে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই নারীর দেবরসহ তিন আসামির মৃত্যুদ- এবং চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত।
রাজশাহীর দ্রম্নত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার গতকাল বুধবার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আকলিমার দেবর আবুল হোসেন মাস্টার এবং হাবিবুর রহমান হাবিব ও চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাককে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ- করা হয়েছে। দেউলা রানী রিভারভিউ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিড়্গক আবুল হোসেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তরা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুলস্নাহ আল কাফি, একই গ্রামের লবির উদ্দিনের ছেলে রম্নহুল আমিন, দুর্গাপুরের খিদ্রকাশিপুর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে রম্নসত্মম আলী এবং খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরম্নল ইসলাম ওরফে মনির। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি বিচারক তাদের দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদ- দিয়েছেন।
আদালতের রাষ্ট্রপড়্গের আইনজীবী এনত্মাজুল হক বাবু জানান, ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে বাগমারার দেউলিয়া গ্রামের আকলিমা বেগম ও তার ছেলে জাহিদ হাসানকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পিপি এনত্মাজুল হক আরও জানান, এ হত্যাকা-ের ঘটনায় আকলিমার বড় ছেলে দুলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় মামলা করেন। এরপর থেকে এই জোড়া খুনের তদনত্ম বিভিন্ন সময় নানা মোড় নেয়। তিন দফা বদল করা হয় তদনত্ম কর্মকর্তা। সবশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদনত্ম করে। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন সাতজনকে অভিযুক্ত করে এ অভিযোগপত্র দাখিল করলে এ মামলার বিচারকাজ শুরম্ন করে আদালত। দ্রম্নত নিষ্পত্তির জন্য এ বছরের এপ্রিলে আলোচিত এ মামলাটি জেলা জজ আদালত থেকে দ্রম্নত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলাটিতে মোট ৫১ জন সাড়্গী ছিলেন। আদালত ৪৭ জনের সাড়্গ্য গ্রহণ করে। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আকলিমা বেগমের দেবর আবুল হোসেন মাস্টার এবং হাবিবুর রহমান হাবিব আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।
নিহত আকলিমা বেগমের বড় ছেলে দুলাল হোসেন বলেন, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা আবুল হোসেন সব সম্পত্তির দেখাশোনা করতেন। ২০১৪ সালে তার ভাই জাহিদ রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে মাস্টার্স শেষ করেন। চাচা আবুল হোসেনের পর তার ভাই জাহিদ ছিল একমাত্র উচ্চ শিড়্গিত। বিষয়টি মেনে নিতে পারতেন না চাচা। জাহিদ পড়াশোনা শেষ করে চাচার কাছ থেকে সব সম্পত্তি বুঝে নিতে চায়। এ নিয়ে চাচার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরম্ন হয়েছিল। এর জেরে তার মা ও ভাইকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে জানান দুলাল।