পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সাথে থানায় বিয়ে দেয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি ওবাইদুল হককে সাময়িকভাবে বরখাসত্ম করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বুধবার বিকেলে বরখাসেত্মর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান। তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধানত্ম জানিয়ে সংশিস্নষ্ট সকল দপ্তরে ফ্যাঙ বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে ওই পত্রে ওবাইদুল হককে চট্রগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্তির কথাও জানানো হয়েছে ।
সূত্র মতে, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামে গত ২৯ আগস্ট রাতে এক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে রাসেল হোসেন নামের এক যুবক। পরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে রাসেলের সহযোগীরা।
এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা না নিয়ে থানায় অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেলের সাথে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলা নথিভুক্ত ও জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে পুলিশি তদনেত্ম এই ঘটনায় ওসি ওবায়দুল হক এবং এসআই একরামুল হকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে। প্রাথমিকভাবে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম গত ১২ সেপ্টেম্বর ওসিকে প্রত্যাহার ও এসআইকে সাময়িক বরখাসত্ম করেন। তদনত্ম রিপোর্ট পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর পর প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা শেষে ওসি ওবাইদুল হককে সাময়িক বরখাসেত্মর সিদ্ধানত্ম জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।
এছাড়া এই ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদনত্ম দলের প্রতিবেদনেও ধর্ষণ ও ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ।