স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ এক। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। ধর্ম নিয়ে যাতে কেউ বাড়াবাড়ি না করে সেকথা তিনি বলেছেন। আওয়ামী লীগ ড়্গমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকে। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ যখন ড়্গমতায় ছিল না তখন সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতিত হতে হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চমৎকার সম্প্রীতি বিদ্যমান। এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গায় সজাগ থাকতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনের সিটি হলরম্নমে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াত-শিবির ঘাপটি মেরে আছে, কোনো কোনো জায়গায় তারা রং বদলিয়েছে। নিজেদের বাঁচাতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। দল থেকে এসব হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। আর ১০/১৫ বছর শেখ হাসিনা সরকার যদি একটানা ড়্গমতায় থাকে তাহলে বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি, তিনি যাতে সেটি করতে পারেন। তাহলে ২০৪১ সাল নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হবে।
সম্প্রীতি বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শন এবং তাঁর নেতৃত্বে সর্বধর্মের সমন্বয়ের স্বাধীন বাংলাদেশ পছন্দ হয়নি ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক ভাবাপন্ন অপশক্তির। তাই তারা পঁচাত্তরের মধ্য আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে জাতির ইতিহাসকে বিপরীতমুখী করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালায়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটিয়ে, নিয়ত কলঙ্কিত করে এই ভূখন্ডের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে। তবে জাতির সৌভাগ্য এই যে, পিতার জীবন দর্শনকে আত্মস’ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে দেশ ও জাতিকে আবার ইতিহাসের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছেন। আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী সামনে রেখে আগামী ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যে যেখানেই থাকি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের পড়্গের সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তবে মৌলবাদি, ধর্মান্ধরা প্রত্যাখিত হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী। সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান। সভায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্ট্রানসহ সব ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরা অংশ নেন।