স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তর নির্মাণে জেলা পরিষদের জমি দখলের সত্যতা পেয়েছে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কমিটির সদস্যরা রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ওই জমিতে সরেজমিন তদনেত্ম গিয়ে তারা এই সত্যতা পান।
এ সময় স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শায়লা শারমিন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব আজিজ হায়দার ভুঁইয়াও উপসি’ত ছিলেন। তাদের উপসি’তিতেই জমিটি মাপজোখ করে দেখা যায়, আরএমপির ভবন নির্মাণের জন্য ৪৭ শতক জমি দখল করা হয়েছে। সেই জমিতে পাইলিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে।
জমি মাপজোখের সময় মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া কমিটির আহ্বায়ক বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানও উপসি’ত ছিলেন। এছাড়া উপসি’ত ছিলেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার, আরএমপির কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব, জেলা পরিষদের স’াপনা বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবুল ফজল প্রামাণিক প্রমুখ।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, এই জমিতে ভবন নির্মাণ না করার জন্য আমরা বার বার বারণ করেছিলাম। তিন তিনটি সভায় পুলিশের পড়্গ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, তারা নিজেদের জমিতেই ভবন নির্মাণ করছে। কিন’ মন্ত্রণালয়ের কমিটি মাপজোখ করে দেখল তাদের দাবি ভুল। তবে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা কোনো সিদ্ধানত্ম দেননি। তবে আমরা জমি ছাড়তে রাজি নই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রম্নহুল কুদ্দুস বলেন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছেন। কিন’ আমি বাইরে থাকায় এ বিষয়ে বিসত্মারিত জানি না।
প্রসঙ্গত, সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিলো জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর আরএমপির কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দপ্তরের কার্যক্রম। কিন’ পুরো জমিটি দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরম্ন করা হয়। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যনত্ম গড়ায়।
এ নিয়ে গত ২২ আগস্ট স’ানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কড়্গে স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য ওই কমিটি গঠন হয়। এরপরই এই কমিটি গতকাল ঘটনাস’ল পরিদর্শন করলো।