স্টাফ রিপোর্টার: জন্মের সময় শিশুটির পেট ছিলো অস্বাভাবিক বড়। দিন যত যায় পেটও তত বড় হতে থাকে। শিশুটি দিনে কয়েকবার বমিও করতো। গেল ১ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা-মা। এরপর গতকাল মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির পেট থেকে আরেকটি অপরিণত শিশু বের করা হয়েছে।
ছয় মাস বয়সী এই শিশুর নাম তাফসীর রহমান। তার বাবার নাম ওয়াসিম আকরাম। মা শাহনাজ বেগম। ওয়াসিম একজন রিকশাচালক। তার বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অনুপমপুর গ্রামে। শাহনাজ বেগম গৃহিণী। তার পাঁচ বছর বয়সী আরেকটি ছেলে রয়েছে। তাফসীর তার দ্বিতীয় সনত্মান।
গতকাল সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে তাফসীরের পেট থেকে আরেকটি অপরিণত শিশু বের করা হয়। রামেকের অধ্যড়্গ ও শিশু বিভাগের প্রধান ডা. নওশাদ আলী এই অস্ত্রোপচার করেন। খবরটি মুখে মুখে গোটা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অবশ্য জানতে চাইলে ডা. নওশাদ আলী বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি এটাকে টিউমার হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলছেন, যে ধরনের মাংসপি- পাওয়া গেছে সেটা আসলে একটা অপরিণত শিশু। আর যে প্রক্রিয়ায় তাফসীরের পেটে অপরিণত এই শিশু পাওয়া গেছে তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, ‘ফিটাস ইন ফিটো’। এর বাংলা অর্থ ‘শিশুর ভেতর শিশু’। তিনি বলেন, শাহনাজ বেগমের গর্ভে যমজ শিশু জন্ম নিচ্ছিল। কোনো কারণে একটা শিশুর ভ্রম্নণ আরেকটির ভেতরে ঢুকে যায়। এর ফলে সেই ভ্রম্নণটি স্বাভাবিক শিশু না হয়ে বিকৃতভাবে বড় হতে থাকে। এক সময় মারা যায়। আর যে শিশুর পেটের ভেতর এই ঘটনা ঘটে সে শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করে।
শিশু তাফসীর রামেক হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ২২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। দুপুরে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তাফসীরের পেট থেকে শিশু বের করার খবরে অনেকেই ওই ওয়ার্ডে গিয়ে তাকে খুঁজছেন। তবে বিকাল পর্যনত্ম তাফসীরকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের না করার কারণে কেউই দেখতে পাননি।
তবে এই ওয়ার্ডের একজন সেবিকা অপারেশন থিয়েটার থেকে মুঠোফোনে বিকৃত শিশুটির ছবি তুলে আনেন। এতে দেখা যাচ্ছে, বিকৃত একটি মাথা এবং কিছু নাড়ি। ওই সেবিকা বলেন, এসবের ওজন দেড় কেজি হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। আর তাফসীরের ওজন হতে পারে ছয় কেজি।
তাফসীরের বাবা ওয়াসিম আকরাম বলেন, তাফসীরের অস্ত্রোপচারের সময় ভেতরে তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর অপারেশন থিয়েটারেই তার শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। ঘুম ভাঙলে তাকে ওয়ার্ডে দেওয়া হবে। সে এখন সুস’ আছে বলেই চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন।