স্টাফ রিপোর্টার: চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার পুলিশ কর্মকর্তার নানা দুর্নীতি তদনেত্মর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারি। বিভিন্ন যানবাহন থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ট্রাফিক জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করা ছাড়াও চিরকুট বা টোকেন সিস্নপের মাধ্যমে দালাল নিয়োজিত করে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এদের বিরম্নদ্ধে।
চারজনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানও রয়েছেন। অন্য যাদের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ তদনত্ম হচ্ছে তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই-১) জাহিদুল হক সরকার, ট্রাফিকের টিআই-২ ফারম্নক হোসেন ও পুলিশ সার্জেন্ট আলিম হোসেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ তদনত্ম করে প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ গ্রহণের জন্য পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তারকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ প্রধান।
অভিযোগগুলো তদনেত্মর দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নিশারম্নল আরিফ। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তদনত্ম কর্মকর্তার দপ্তরে হাজির হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে চলমান ছোট-বড় সব যানবাহন থেকে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদা তুলে আসছে। কোথাও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেরাই ট্রাক বাস, নসিমন, অটো ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলেন আবার কোথাও কোথাও দালাল নিয়োগ দিয়ে টাকা আদায় করেন।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন আটকের পর দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ জরিমানার একটা সিস্নপ যানবাহন মালিকের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ট্রাফিক অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। যানবাহন মালিক সেখানে গেলে তার কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হলেও আদায়কৃত টাকা সরকারি তহবিলে বিধি মোতাবেক জমা করা হয় না। এই ধরণের অনৈতিক ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রাফিক অফিসে। এর সঙ্গে কতিপয় দালাল, ট্রাফিক পুলিশ ও জেলার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, একাধিক গোয়েন্দা সংস’া সরেজমিনে তদনত্ম করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ট্রাফিক পুলিশের এই ধরণের অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবেদন পাঠায় পুলিশ সদর দপ্তরে। এই প্রতিবেদনটি আইজিপি আমলে নিয়ে রাজশাহীর রেঞ্জের ডিআইজিকে তদনেত্মর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারম্নল আরিফ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাফিকে দালাল নিয়োগ করে চাঁদাবাজি ও ট্রাফিক জরিমানার আদায়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তিনি তদনত্ম করছেন। ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের আগামী ২১ সেপ্টেম্বর হাজির হতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশিস্নষ্টদের বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস’া নেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান তাদের বিরম্নদ্ধে তদনত্ম হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জানান, তিনি নোটিশ পেয়েছেন। নির্ধারিত দিনে ও সময়ে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। তবে তার বিরম্নদ্ধে তোলা অভিযোগ সত্য নয় বলেই দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।