স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্প বাসত্মবায়নের ড়্গেত্রে চলছে লুটপাট। কয়েকটি প্রকল্পে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়েছে।
ঠিকাদারের যোগসাজসে এলজিইডির বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন তার দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে এই লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উলেস্নখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় সাত বছর ধরে বাগমারায় কর্মরত প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। ঘুষ না দিলে তিনি হয়রানি করেন ঠিকাদারদেরও। আর উন্নয়ন প্রকল্পের বাসত্মবায়ন নয়, নিজের পকেটের উন্নয়নই তার উদ্দেশ্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গেল অর্থবছরে বাগমারার কেশরহাট-ভবানীগঞ্জ, ভায়া আহসানগঞ্জ রাসত্মার সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন এবং সাদেকুল ইসলামের যোগসাজসে কাজটি অত্যনত্ম নিম্নমানের করে বাসত্মবায়ন করেছেন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান। কাজের সিডিউলের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে লোকদেখানো এই কাজে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এতে পকেট ভরেছে উপজেলা প্রকৌশলীসহ তার দপ্তরের অন্য দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলীর। নজরম্নল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার এই অভিযোগ দিয়েছেন।
একই দিন অপর এক অভিযোগে ওয়ারেশ আলী নামের আরেক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বাগমারায় যোগদানের পর ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প তৈরি করেন। এরপর নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার পছন্দের তিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ বন্টন করেন। একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শ্রীপুর, বাসুপাড়া, কাচারি কোয়ালিপাড়া, শুভডাঙ্গা ও মাড়িয়া ইউনিয়নের জন্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭৯২ টাকা, আরেকটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গোবিন্দপুর, নরদাশ, দ্বীপপুর বড়বিহানালী ও আউচপাড়া ইউনিয়নের জন্য ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬০৩ টাকা এবং তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গণিপুর, ঝিকড়া, গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা, যোগিপাড়া ও সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের জন্য ৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৩৭ টাকা বরাদ্দ দেখান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ দেখানো হলেও কোনো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেন উপজেলা প্রকৌশলী। বাসত্মবে এই ধরনের কোনো প্রকল্প বাসত্মবায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে তখনও রাজশাহীর আদালতে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে জালিয়াতির মামলা হয়েছিল। কিন্তু পরে মামলাটির কী হয়েছে সেটার কোনো খোঁজ নেই। সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। ফলে অনিয়ম আর দুর্নীতিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘুষ না দিলে ঠিকাদারদের কাজ দেন না প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ঠিকাদাররা কাজ পেলেও তিনি ঘুষের টাকার জন্য কার্যাদেশ আটকে রাখেন। তার চাহিদামতো ঘুষ দিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদাররা প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়েন। তাই স্থানীয় কোনো ঠিকাদারের সঙ্গেই তার ভাল সম্পর্ক নেই। এর আগে পটুয়াখালির দশমিনা উপজেলায় ছিলেন সানোয়ার হোসেন। সেখানেও ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। ঘুষ আদায়কে কেন্দ্র করে ঠিকাদারদের হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। শেষে তাকে শাসিত্মমূলকভাবে বাগমারায় বদলি করা হয়। এখানে তিনি সাত বছর ধরে আছেন। আর চালিয়ে যাচ্ছেন নানা অনিয়ম।
দুদদের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। অভিযোগের বিষয়টি জানি না। অভিযোগ হলে সেটা নিয়ে আমাদের সভায় আলোচনা করা হবে। অভিযোগগুলোর ধরণ দেখে অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেয়া হবে। সেখান থেকে অনুমতি দেয়া হলে অনুসন্ধান করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দে বাগমারায় ২৫ কিলোমিটার রাসত্মা এইচবিবিকরণ করা হয়েছে। বিধিমোতাবেক কাজ করা হয়েছে শতভাগ। একই উপজেলায় দীর্ঘ সময় কীভাবে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে সাড়ে পাঁচ বছর আছি। কীভাবে আছি কর্তৃপড়্গই সেটা ভালো বলতে পারবেন। আমার কোনো মনত্মব্য নেই।
জানতে চাইলে এলজিইডির রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সানিউল হক বলেন, একজন কর্মকর্তা এক দপ্তরে কত দিন থাকবেন সে ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে আমি একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিছু অভিযোগ আছে অনেক পুরনো, কিছু নতুন। সবগুলো অভিযোগই তদনত্ম করে দেখা হবে।