এফএনএস: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন, অপকর্ম করলে কেউ ছাড় পাবে না। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ভবনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির চলমান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যেসব নেতার বিরম্নদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে, তারা কেউই ছাড় পাবে না। তবে সবার বিরম্নদ্ধেই দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, অনেকের বিরম্নদ্ধে প্রশাসনিকভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেতাকর্মীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সংস্থার প্রতিবেদন রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। নানা বিতর্ক, সমালোচনা আর অভিযোগের মুখে থাকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সমপ্রতি সংগঠন থেকে বাদ দেন সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধানত্ম দেওয়ার সময় তিনি যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উলেস্নখ করে ছাত্রলীগের বাদ হওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়েও খারাপ বলে মনত্মব্য করেন। শেখ হাসিনা সেসময় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ এ ধরনের কাজ করলে মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রলীগের মত যুবলীগের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ নিজেরাই নেতাকর্মীদের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ তদনত্ম করতে একটি সেল গঠন করেছে। তারা নিজেরাই শোধরানোর পথ বেছে নিয়েছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অভিজ্ঞ হলেও তাদের থাকার প্রয়োজন নেই বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিআরটিসির যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের সরিয়ে দিতে হবে। তারা যত বড় পদে থাকুক, যত দক্ষ হোক।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজাররা কতটা আনত্মরিক বিআরটিসিকে লাভজনক করার ব্যাপারে সে বিষয়েও আমার শঙ্কা রয়েছে। ডিপো ম্যানেজাররা তাদের টার্গেট ফুলফিল করতে পারছে কি না তার জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। বিআরটিসি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বিআরটিসিকে নতুন নতুন বাস দিচ্ছি। এগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। বাসগুলোর দিকে তাকানো যায় না। ডাবল ডেকার বাসগুলোর দৃশ্য আরও করম্নণ। ফ্যান নষ্ট, বাসের জানালা ভাঙা, বাসের মাথার দিকে দোমড়ানো-মোচড়ানো, এসি বাসগুলোর এসি বিকল বিআরটিসির গাড়ির এই দৃশ্যপট কতটা পরিবর্তন হয়েছে। চেয়ারম্যান আসে চেয়ারম্যান যায় পুরনো গাড়িগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকে। এই চিত্র আর কতদিন দেখতে হবে। বিআরটিসির কর্মীরা বেতন পাচ্ছে না এ ধরনের কথা আগামীতে যেন আর শুনতে না হয়, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেন। বিআরটিসির কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের চেয়ে নিজের পকেট উন্নয়নে ব্যসত্ম থাকেন। যারা দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে না তাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিআরটিসির কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা একটা পাবলিক সার্ভিস, জনগণ যাতে ভালো সেবা পায় সেদিকে গুরম্নত্ব দিতে হবে। ঈদের সময় বিআরটিসির গাড়িগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়, এসব বন্ধ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসির গাড়ি ইজারা এখন থেকে বন্ধ করতে হবে। কারণ যাকে তাকে ইজারা দিলে বিআরটিসির লাভ হবে না। যতবড় প্রভাবশালীই হোক না কেন কাউকে ইজারা দেয়া যাবে না। একই সঙ্গে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। হেলপার দিয়ে গাড়ি চালালে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।
সভায় বিআরটিসির চেয়ারম্যান এহসান ই এলাহীসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।