আইন-শৃঙ্খলা রৰার মাধ্যমে জনগণের সেবা করাই পুলিশের দায়িত্ব। অপরাধ দমন ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করাও এই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দায়িত্ব পালনে পুলিশের সফলতা অস্বীকার করা যাবে না। তবে কোনো কোনো ৰেত্রে দায়িত্বহীনতায় পুলিশের ভাবমূর্তি ৰুণ্ন হওয়াও স্বীকার করতে হবে। গতকালের সোনালী সংবাদে এ ধরনের দুটি প্রতিবেদন সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে।
রাজশাহীতে পুলিশের কিছু সদস্যের বির্বদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে আটক করে হয়রানি করা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ব্যাপারে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের বির্বদ্ধে জেলা প্রশাসক ও আরএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে। দিন-তারিখ ও ঘটনার বর্ণনাসহ ওই সব অভিযোগ মুখের কথায় উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। তাই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পুলিশের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল করবে, জোর দিয়ে বলা যায়।
অন্য প্রতিবেদনে পাবনা সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগকারীর সাথে থানা চত্বরে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওসি ও এসআইয়ের বির্বদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া নেয়ার কথা জানা গেছে। অতি উৎসাহী কতিপয় পুলিশ সদস্যের আইন বহির্ভূত কাজের দায় কোনোভাবেই পুলিশবাহিনীর ওপর বর্তাতে পারে না। দোষীদের বির্বদ্ধে যথাযথ ব্যবস’া পুলিশের ওপর জনগণের আস’া বাড়াতে সহায়তা করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকা খুবই ইতিবাচক। জর্বরি সেবার ৯৯৯ নম্বরের কার্যক্রম উলেৱখ করার মত। এ পর্যন্ত এক কোটি ৪২ লাখ কল রিসিভ থেকে বোঝা যায় জনগণের আগ্রহের কথা। তাই এই সেবায় জনবল বৃদ্ধি অপরিহার্য হওয়ায় বর্তমানের ১৪২ জনের সাথে আরও ৫০০ জন নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঘরে বসে অনলাইনে থানায় জিডি করা, ‘সেইফ সিটি’ কার্যক্রম শুর্ব, কারাগারে বন্দীদের মোবাইল ফোনে স্বজনের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস’া চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথাও উলেৱখযোগ্য। এসবই পুলিশ বাহিনীর দৰতা ও জনবান্ধব ভূমিকা বৃদ্ধি করবে নিঃসন্দেহে।
সরকারের এমন ভূমিকার সফলতা নির্ভর করছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ওপর। এর নিশ্চয়তা বিধান করা হলে পুলিশের বির্বদ্ধে অভিযোগ কমে আসতে সময় লাগবে না। আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।