শিরিন সুলতানা কেয়া: রাজশাহী মহানগরীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার যানজট কমাতে ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু এই কার্যক্রমে তেমন গতি নেই। ফলে এখনও নগরীতে ভুয়া নিবন্ধনে চলাচল করছে বহু অটোরিকশা। এ কারণে কমছে না নগরীর যানজট।
নগরীর যানজট কমাতে গত জুনে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। নীতিমালা অনুযায়ী, অটোরিকশার জন্য নতুন করে ডিজিটাল নিবন্ধন নিতে হবে মালিকদের। আর চালকদের নিতে হবে লাইসেন্স। ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে প্রতি সপ্তাহে রঙ ও সময় পরিবর্তন করে সকাল থেকে দুপুর ও দুপুর থেকে রাত পর্যনত্ম মেরম্নন-পিত্তি রঙের অটোরিকশা চলাচল করবে। কিন্তু এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তেমন সাড়া নেই অটোরিকশার মালিক ও চালকদের।
রাসিক জানিয়েছে, এ পর্যনত্ম মাত্র ৪ হাজার অটোরিকশার ডিজিটাল নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছে। আর অনলাইনে আবেদন পাওয়ার পর প্রায় ৪০০টি অটোরিকশাকে ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। অটোরিকশার রঙ অনুসারে এসব নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধনের বাইরে আছে প্রচুর সংখ্যক অটোরিকশা। এসব অটোরিকশা ডিজিটাল নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন পর্যনত্ম করেনি।
এদিকে, বর্তমানে সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারণা করা হয় নগরীতে চার্জার ও অটোরিকশা চলছে অনত্মত ৩৫ হাজার। এর বেশিরভাগেরই নিবন্ধন নেই বা থাকলেও তা নকল। একই অটোরিকশার নম্বর পেস্নট ঝুলিয়ে চলাচল করছে একাধিক অটোরিকশা। চালকদের নেই কোনো প্রশিড়্গণ। আর যত্রতত্র পার্কিং তো হচ্ছেই। ফলে পুরো নগরীতে প্রতিনিয়ত যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর রেলগেট, সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর, রাজশাহী কলেজের সামনের সড়ক, আলুপট্টি থেকে তালাইমারী সড়ক, বর্ণালী মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, সোনাদিঘি মোড়, শিরোইল বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় সারাড়্গণ অটোরিকশার জট লেগেই থাকে। এই যানজট সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। পথচারিরাও পড়েন দুর্ভোগে।
রাজশাহী কলেজের ছাত্রী তানিয়া খাতুন বলেন, কলেজের সামনে পুলিশের পড়্গ থেকে সাইনবোর্ড লাগানো আছে যে এখানে ‘ইউটার্ন নিষেধ’। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সারাড়্গণ অটোরিকশাগুলো সাহেববাজার থেকে এসে কলেজের সামনেই ইউটার্ন নেয়। ফলে এখানে সারাড়্গণ যানজট থাকে। আমরা রাসত্মা পর্যনত্ম পার হতে পারি না। পার হতে গেলে কখনও কখনও অটোরিকশা এসে ধাক্কা দেয়।
তানিয়া খাতুন বলেন, অটোরিকশা চালকদের প্রশিড়্গণ দেয়া দরকার। পাশাপাশি কোথায় কোথায় অটোরিকশা থামানো যাবে তারও নির্দিষ্ট স্টপেজ করে দেয়া দরকার। তা না হলে যত্রতত্র অটোরিকশা থামানোর ফলে যে যানজট তৈরি হচ্ছে তা কোনো দিনই নিরসন হবে না। আমাদেরও দুর্ভোগ কমবে না। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, তাদের অটোরিকশার নীতিমালা অনুযায়ী ‘স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ পুরোপুরি বাসত্মবায়ন হলে বিভাগীয় এ শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
গত ১ জুলাই নগর ভবনের সামনে অনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের’ উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন। সেদিন এটি পুরোপুরি বাসত্মবায়নে এক মাস সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই একমাস সময়সীমা পার হলেও স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হয়নি। ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সাড়া দিচ্ছেন না অটোরিকশার মালিক এবং শ্রমিকরা।
সিটি করপোরেশনের নীতিমালা বা স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনুযায়ী, নগরীতে দিনে দুই শিফটে মেরম্নন-পিত্তি রঙের অটোরিকশা চলাচল করবে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যনত্ম উভয় রঙের অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা চলাচল করতে পারবে। কিন্তু সরম্ন চাকার কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। যেসব অটোরিকশা ও চার্জার রিকশার মালিক সিটি করপোরেশন এলাকার নাগরিক নয় তাদের নিবন্ধন বাতিল হবে। কোনো অটোরিকশা ও চার্জার রিকশার মালিকের নামে পাঁচটির বেশি অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা থাকতে পারবে না। চালকদের সিটি করপোরেশন থেকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তাদের পরতে হবে নির্দিষ্ট পোশাক।
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাশেদুজ্জামান রাশেদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইজিবাইক মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সাগর বলেন, তাদের সমিতির আওতাভুক্ত সব সদস্যকে ডিজিটাল নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কতজন করেছেন তা তিনি জানেন না।
সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. নূর-ঈ-সাইদ বলেন, এখন ভুয়া নম্বর পেস্নট লাগিয়ে অনেক অটোরিকশা চলাচল করে। সেই জন্যই অনলাইনে ডিজিটাল নিবন্ধনের জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যনত্ম ৪ হাজার আবেদন এসেছে। ৪০০টির ডিজিটাল নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। জোড়-বিজোড় নম্বর দেখে ২০০ অটোরিকশাকে দুই রঙে বিভক্তও করা হয়েছে। প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে আমাদের বৈধ অটোরিকশা প্রায় ১০ হাজার। এই ১০ হাজারকেই স্মার্ট অটোরিকশা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে আনা হবে। আবেদন ১০ হাজার পূর্ণ হলে আর গ্রহণ করা হবে না। যারা আবেদন করবে না তারা এক সময় শহরে অটোরিকশা চালাতে পারবে না। ফলে যানজট কমবে।