এফএনএস: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে হুমায়ূন (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হুমায়ূনের ভাই জজ মিয়া (২৬) ও মা রাহেনা খাতুন (৭০) আহত হয়েছেন। গুর্বতর আহত জজ মিয়াকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গফরগাও থানার ওসি অনুকূল সরকার এ কথা জানান। নিহত হুমায়ূন উপজেলার রাওনা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। ওসি জানান, পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস’তি চলছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। স’ানীয়রা জানান, উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের রাওনা গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার মতিন মিয়ার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ধোপাঘাট গ্রামের নামাপাড়া এলাকার শহর মেম্বারের বাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ধোপাঘাট নামাপাড়া গ্রামের লোকজন রাওনা গ্রামের কাঞ্চন মিয়াকে মারধর করে।
এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে ধোপাঘাট গ্রামের শরীফুল (৩৫), নয়ন (৩২), ছাইদুল (৪৩), সিরাজ (৪৫), সুমন (৩৬), কফিলউদ্দিন (৮৭) ও ছাত্তারের (৪৫) নেতৃত্বে একটি দল মতিন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ওই বাড়িতে লুটপাট করাসহ হুমায়ূনের বৃদ্ধ মা রাহেনা খাতুনকে (৭০) পিটিয়ে গুর্বতর আহত করে।
তাদের ভয়ে ওই বাড়ির নারী ও শিশুরা পাশের বাদল মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে তারা ধোপাঘাট বাজারে গিয়ে রাওনা গ্রামের ইসমাইলের চা স্টল ভাঙচুর করে। এ খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে হুমায়ূন ও জজের নেতৃত্বে রাওনা গ্রামের বেশ কয়েকজন লোক সংগঠিত হয়ে ধোপাঘাট বাজারে যায়।
ধোপাঘাট বাজারে যাওয়ার পর শরিফুল, নয়ন, ছাইদুল ও সিরাজের নেতৃত্বে ওই গ্রামের ৩০/৪০ জন লোক রামদা, বলৱম, কিরিচ ও চাপাতি নিয়ে রাওনা গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় ধোপাঘাট গ্রামের লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাওনা গ্রামের হুমায়ূন ও জজকে গুর্বতর জখম করে।
এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস’ার অবনতি হলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পথে হুমায়ুনের মৃত্যু হয়।