এফএনএস: নানান জটিলতার কারণে ভারতীয় ঋণ চুক্তির (লাইন অব ক্রেডিট -এলওসি) আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন কার্যক্রম গতি পাচ্ছে না। ভারতের সঙ্গে ৭৩৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের চুক্তি হলেও ছাড় হয়েছে মাত্র ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
ঋণচুক্তির সমন্বয়ক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তিনটি ঋণ চুক্তির আওতায় ৪৭টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
সংশিৱষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালে প্রথম এলওসির আওতায় ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার ঋণের প্রতিশ্র্বতি ছিল ভারতের। প্রতিশ্র্বতির ৯ বছরে অর্থ ছাড় হয়েছে মাত্র ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
একারণে প্রথম ঋণচুক্তির আওতায় নেওয়া ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি প্রকল্প এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। সংশিৱষ্টরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) দেরি ও প্রকল্প অনুমোদনে ভারতের গড়িমসিসহ বিভিন্ন কারণে এগুলোর বাস্তবায়ন গতি পাচ্ছে না।
জানা গেছে, প্রথম ঋণচুক্তির আওতায় শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোতে জমি অধিগ্রহণ ও বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে জটিলতা ছিল। সেগুলোর সমাধান হয়েছে। দ্বিতীয় ঋণচুক্তির আওতায় ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৩ কোটি ২৮ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগের এ ঋণচুক্তির আওতায় নেওয়া ১৬টি প্রকল্পের একটিরও কাজ শুর্ব হয়নি।
আর তৃতীয় ঋণচুক্তির আওতায় কোনও অর্থ ছাড় শুর্ব হয়নি। প্রায় দুই বছর আগে ৪৫০ কোটি ডলারের এ চুক্তির আওতায় গৃহীত ১৬ প্রকল্পের কোনটিরই কাজ শুর্ব হয়নি।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় এলওসির আওতায় নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করে কাজে গতি আনতে গত জুলাই মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের যৌথ পর্যালোচনা সভায় আলোচনা হয়েছে।
প্রথম এলওসির আওতায় ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়ে ১৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনটি প্রকল্প এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। এগুলো সবই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন। গত জুলাই পর্যন্ত প্রথম এলওসির মোট অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা মোট ঋণের ৬২ দশমিক ১৮ শতাংশ। বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে খুলনা-মোংলা রেল লাইন নির্মাণের কাজ কাজই শুর্ব হয় ২০১৬ সালে।
এটার কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ সংশোধন করে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণের কাজ চলতি বছর জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধন করে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জুন ২০২৩ সাল পর্য়ন্ত। এছাড়া কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন রেলপথ পুনর্বাসনের কাজও এ বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা পিছিয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ করা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৪ শতাংশ। প্রকল্পটিতে এখনো ভূমি অধিগ্রহণ বাকি আছে। এ ছাড়া রূপসা সেতুর কারণে প্রকল্পের নকশায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে; সেতু নির্মাণে পাইলিংয়েও কিছু সমস্যা রয়েছে। আর ঢাকা-টঙ্গী ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার সঙ্গে ওই র্বটে একটি এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুর্ব হওয়ায় তা বেড়েছে।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে ২০০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় এলওসির আওতায় নেওয়া ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১৩টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্প চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জ ও মিরসরাইয়ে ‘এস্টাবিৱশমেন্ট অব ঢাকা আইটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড) নির্মাণ’ প্রকল্পটি যৌথ সভায় বাদ দিয়ে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রকল্প প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি, পরামর্শক নিয়োগ ও নির্মাণকাজের দরপত্র দলিলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে সময় লাগে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুর্ব করতে লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। বাস্তবায়ন পর্যায়ে দেখা যায়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে গতি নেই। এ ছাড়া ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, প্রকল্প পরিচালকের হাতে আর্থিক ক্ষমতা থাকে না। ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক তাদের ইচ্ছামতো অর্থছাড় করে। মূলত এসব কারণে প্রকল্পগুলোর বেহাল অবস’া কাটছে না।