এফএনএস: গাজীপুরে কিশোর নুর্বল ইসলাম (১৬) হত্যার ঘটনায় ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্র্বপের মূল হোতা রাসেল মিয়াসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। গত বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সরোয়ার-বিন-কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘তুই’ বলাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোর গ্র্বপের দ্বন্দ্বে এই হত্যাকা- ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কিশোরঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সুরাটি গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (১৮), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের নতুন পটকা গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া (২১), সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার জুগনিদাই গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (১৭), গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম গ্রামের মহসিন সিকদারের ছেলে জোবায়ের হোসেন (১৭), জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডালবাড়ী গ্রামের খায়র্বল শেখের ছেলে শেখ আমির হামজা (১৯), গাজীপুর মহানগরের জামতলা গ্রামের আবদুল ওয়াদুদ পাটোয়ারী ছেলে সুজন পাটোয়ারী (১৭)।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সরোয়ার-বিন-কাশেম জানান, ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্র্বপের প্রধান রাসেল মিয়া এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এ গ্র্বপ গঠন করে। ঘটনার দিন ৩ সেপ্টেম্বর তার নেতৃত্বেই গ্র্বপের অন্যান্য সদস্যরা ধারালো চাপাতি নিয়ে গাজীপুর মহানগরের ‘রাজ-দীঘিরপাড়’ গ্র্বপের সদস্য নুর্বল ইসলামকে আক্রমণ করে ভিকটিম নুর্বল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ‘তুই’ বলাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্র্বতার জের ধরে দুই কিশোর গ্যাং গ্র্বপের মধ্যে সংঘর্ষে এ হত্যাকা- ঘটে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকা- বে্যবহৃত তিনটি চাপাতি, তিনটি চাকু, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নুর্বল ইসলাম গাজীপুর রাজবাড়ী আদালতপাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে কাজ করতো। তার বাবার নাম ফকির আলী।
তিনি মহানগরের সাহাপাড়ায় থাকতেন। সেপ্টেম্বরের শুর্বতে বাসা পরিবর্তন করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে টাঙ্কিরপাড় এলাকার ফরিদের বাসা ভাড়া নেন তিনি। তার ছেলে নূর ইসলাম ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসায় খাওয়া শেষে রাজদীঘির উত্তর পাড়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো। এ সময় কয়েকজন এসে তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী গুর্বতর আহতাবস’ায় নূর ইসলামকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।