বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামি ১৪ অক্টোবর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের সাথে করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন, সংরড়্গিত নারী সদস্য পদে ৬৫ ও সাধারণ সদস্য পদে ১ শ ৮৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
উপজেলার বাজুবাঘা, গড়গড়ি, মনিগ্রাম ও পাকুড়িয়া এই চারটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী চূড়ানত্ম করলেও প্রতিটা ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অপরদিকে এখন পর্যনত্ম দলীয় প্রাথী চূড়ানত্ম করতে পারেনি বিএনপি। এই সংগঠনের মধ্যে একটি ইউনিয়ন পাকুড়িয়া বাদে বাঁকি ৩টিতে প্রায় ডজন খানেক প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন দলের সাবেক উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মজিবুল আলম জানান, এখানে মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যনত্ম চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে দলীয় প্রধান স্বাড়্গরিত মনোনয়নপত্র কেউ আনতে পারেনি। তবে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জন প্রার্থী যথাক্রমে বাজুবাঘা ইউনিয়নে ফজলুর রহমান ফজল, গড়গড়িতে রবিউল ইসলাম, পাকুড়িয়ায় মেরাজ সরকার ও মনিগ্রাম ইউনিয়নে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম দলীয় প্রধানের স্বাড়্গককৃত প্যাডে মনোনয়ন পেয়েছেন।
বাজুবাঘা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী বাজুবাঘা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান, বিদ্রোহী প্রার্থী রফিজ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, হাসমত আলী, দুলাল হোসেন, জিয়াউর রহমান, সাহার আলী। বিএনপি’র প্রার্থীরা হলেন-ফিরোজ আহম্মেদ, নজরম্নল ইসলাম, নওশাদ আলী, আসলাম মালিথা, আসাদুজ্জামান। স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মানিক। গড়গড়ি ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী গড়গড়ি ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি। বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাজালাল লিটন, আবদুর রাজ্জাক। বিএনপি’র প্রার্থীরা হলেন, মাসুদ পারভেজ টিপু, এমদাদুল হক, ডাবলু সরকার ও স্বপন সরকার। পাকুড়িয়া ইউনিয়নে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম সরকার। বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রহমান ও শামিউল আলম। বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু। মনিগ্রাম ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী মনিগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী জিলস্নুর রহমান, কাবাতুলস্নাহ, মাইনুল হক, আয়নাল হক। বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান। সব মিলে চেয়ারম্যান পদে বাজু বাঘায় ১৩ জন, গড়গড়ীতে ১১ জন, পাকুড়িয়ায় ৪ জন ও মনিগ্রামে ৬ জন সর্বমোট ৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্যে হিসাবে বাজু বাঘায় ৩৭ জন, গড়গড়ীতে ৪৯ জন, পাকুড়িয়ায় ৪৭ জন ও মনিগ্রামে ৫৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। একই সাথে সংরড়্গিত নারী আসনে বাজু বাঘায় ১৪ জন, গড়গড়ীতে ১৭ জন, পাকুড়িয়ায় ১১ জন ও মনিগ্রামে ২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার মজিবুল আলম।
আগামি ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ২২ সেপ্টেম্বর প্রতাহারের শেষ দিন ও ১৪ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল জানান, একটি বড় দলে দ্বিদ্ধা-দ্বন্দ্ব থাকবে এটায় সভাবিক। তবে সামনে সময় আছে। আমরা চেষ্টা করবো আগামী ২২ তারিখের মধ্যে বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো।
উলেস্নখ্য, উপজেলার বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া ও মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৩ সেপ্টম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ৪টি ইউনিয়নে আগামী ১৪ অক্টোবর নির্বাচন। ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই। ২২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্দ।