এফএনএস: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে ১২ দিনের মানববন্ধন কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখর্বল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
এর আগে দলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মির্জা ফখর্বল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবী দল, ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দল, ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁতী দল, ১৮ সেপ্টেম্বর অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এইবি), ১৯ সেপ্টেম্বর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ২০ সেপ্টেম্বর যুবদল, ২১ সেপ্টেম্বর ওলামা দল, ২২ সেপ্টেম্বর মহিলা দল, ২৪ সেপ্টেম্বর কৃষক দল, ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রমিক দল, ২৭ সেপ্টেম্বর এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) ও ২৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা তো এখন বলতে পারব না। তবে মানববন্ধন হবে। এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে। মির্জা ফখর্বল অভিযোগ করে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
তার প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য তার মুক্তির দাবিতে আমরা যে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করছি, আজকের যৌথ সভায় সে আন্দোলনের আরেকটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি।
বিএনপির মহাসচিবের সভাপতিত্বে সভায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব র্বহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়র্বল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপসি’ত ছিলেন। ফখর্বল আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গেছেন। প্রতিহিংসাটা এমনই যে অত্যন্ত গভীরে। আজকের শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকার-গুলোকে কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে না, যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন।
সে কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, একই ধরনের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন, তারা জামিনে আছেন। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগেও বলেছি, পৃথিবীর ইতিহাসে বোধ হয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এত বেশি সাফার করেছে।
দুই মাস আগের হিসাবে ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলা, পাঁচশর ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (গত বুধবার) সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। করলে বিরোধীদের অস্তিত্ব থাকত না। এ কথাটা বলে উনি কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে অস্তিত্ব রক্ষা না করার জন্যই তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন? মহিলা দলনেত্রী রাজিয়া আলিমকে গত বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে ফখর্বল বলেন, গ্রেফতার এখনো চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাবা যশোরের কেশবপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখর্বল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে এমনটা থাকতেই পারে যে বাবা একটা রাজনীতি করবেন, আমি একটা রাজনীতি করব। আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন, আমি একটা করতাম।
কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার হয়েছে। এ সময় ফখর্বল আরো বলেন, এখন তো ছেলে বিপদে পড়ে যাচ্ছে। তার বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকেন, তাহলে তার ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তার ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস’া হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব র্বহুল কবির রিজভী, খায়র্বল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসার্বল হক প্রমুখ।