সংবাদপত্রকে সমাজের আয়না বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন অঘটন, অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার খবর ছাপা হয় বলে অনেকেই সাংবাদিকদের ভালো চোখে দেখেন না। এদের পরিচয় বলার অপেৰা রাখে না। সত্য প্রকাশ করে বলে সাংবাদিকরা প্রায়শই রক্তচৰুর মুখে পড়েন। হামলা, মামলারও শিকার হন। সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ ঐকবদ্ধভাবে তা মোকাবিলাও করে থাকে। গত সোমবার নগরীর নিউমার্কেট এলাকার একটি অভিজাত বাণিজ্যিক ভবনের সামনে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় বিৰুব্ধ সংবাদকর্মীরা এমন মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন।
‘থীম ওমর পৱাজা’ নামের ওই বহুতল বাণিজ্যিক ভবনটির অন্যতম মালিক একজন এমপি। সোমবার ঢাকার একটি পত্রিকায় ‘এমপি ফার্বক চৌধুরীর বাবা রাজাকার ছিলেন, রাজশাহীর অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধার বিবৃতি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেদিনই সেই পত্রিকার রাজশাহীর প্রতিবেদক প্রহৃত হন ওই বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে। ভবনের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদের সময় সাংবাদিক পরিচয় জানার পরও সংঘবদ্ধ হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করার সুযোগ নেই।
গতকাল বিৰুব্ধ সাংবাদিক সমাজের মানববন্ধনে বক্তাদের মুখেও একই কথা শোনা গেছে। রাস্তার জমি দখল করে নির্মিত ওই ভবনের কর্মীরা এমপির কথা বলে প্রায়ই সামনে দাঁড়ানো রিকশাচালক এমনকি লোজনকেও হুমকি-ধমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যখন ফুটপাত ও রাস্তার পাশের অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদ হচ্ছে তখন রাস্তার জমির ওপর নির্মিত ‘থীম ওমর পৱাজা’ অৰত থাকে কিভাবে সেই প্রশ্নও উঠেছে। ৰমতার দাপটে সাংবাদিকদের কলম থামানের অপচেষ্টা র্বঁখে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বিৰুব্ধ সাংবাদিক সমাজের সাথে একই সুরে আমরাও সাংবাদিকের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হামলাকারী ও মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সাথে এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলা করতে সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের ওপরই জোর দিতে চাই আমরা। একমাত্র তাহলেই সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূমিকা অৰুণ্ন থাকবে।