সোনালী ডেস্ক: পাবনায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় পুলিশ আরও ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে থানায় ধর্ষণের মামলা না নিয়ে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিত গৃহবধূর বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসি’র বিরুদ্ধে ব্যবস’াসহ প্রশাসনের পদড়্গেপের প্রতি নজর রাখছে হাইকোট। বুধবার বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চে সুপ্রিম কোর্টের ৩ জন আইনজীবী এ সংক্রানত্ম বিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত আদেশ চাইলে তারা এই নজরদারির বিষয়টি জানান।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম ওরফে ঘন্টু (৪০) দাপুনিয়া ইউনিয়নের দড়িকামালপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে এ মামলায় দু জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হল। এর আগে সোমবার মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাসেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি থেকে শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার সাহপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধূকে একই গ্রামের রাসেল হোসেন ডেকে এনে রাসেল ও তার সহযোগিরা ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেন ধর্ষিত গৃহবধূ। কিনত্মু সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নথিভুক্ত না করে মিমাংসা করতে অভিযুক্ত যুবক রাসেলের সাথে গৃহবধূকে বিয়ে দেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে তদনত্ম কমিটি গঠন, ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন পাবনার পুলিশ সুপার। পরে সোমবার বিকেলে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত যুবক রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে বার্তা সংস’া এফএনএস জানায়, পাবনায় দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূর মামলা না নিয়ে থানা চত্বরে সন্দেহভাজন এক আসামির সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস’াসহ প্রশাসনের সার্বিক পদড়্গেপের প্রতি নজর রাখছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চে এ ঘটনার প্রকাশিত খবর তুলে ধরে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে পদড়্গেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের ৩ আইনজীবী।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’ আদালতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল, সঙ্গে ছিলেন গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা। পরে ফয়সাল বলেন, পাবনার বিষয়টি নিয়ে কিছু পত্রিকার প্রকাশিত নিউজ কোর্টের নজরে এনেছিলাম।
আদালত বললেন যে, এ বিষয়ে তো ইতোমধ্যে প্রশাসন পদড়্গেপ গ্রহণ করেছে; ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনারা আবার কেন আসছেন? তখন আমি বললাম, ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিকই। কিনত্মু আজকের পত্রিকায় এসেছে বিয়ের কাজি, যিনি বিয়েটা পড়াতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, তাকে ও ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওসির লোকজন। ওই ওসি যদি ওই থানায় দায়িত্বে বহাল থাকে তাহলে তদনত্মটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।
তখন আদালত বলেন যে, যেহেতু এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং যেহেতু কর্তৃপড়্গ অ্যাকশন নিচ্ছে, দেখেন প্রশাসন কী ব্যবস’া নেয়। যদি প্রশাসনের ব্যবস’া সনেত্মাষজনক না হয় তখন আপনারা আগামি সপ্তাহে আসেন, আমরা দেখব। আদালত এও বলেছেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’
এই ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নিয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে থানা চত্বরে ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর সোমবার পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কর্তৃপড়্গ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে, গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদনত্ম কমিটি। তিন সনত্মানের জননী ওই নারীর অভিযোগ, প্রতিবেশি রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট তাকে তার বাড়িতে নিয়ে এক সহযোগীসহ পালাক্রমে ধর্ষণ করে। দু দিন পর তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয় এবং সেখানে আরও ৪/৫ জন তাকে পালাক্রমে করে ধর্ষণ করে। ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস’া করে বলে ওই নারীর অভিযোগ।