স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর সব বাজারেই মিলছে পলিথিন। কাঁচাবাজার থেকে শুরম্ন করে মুদিখানা সবখানেই পলিথিনের রাজত্ব। এমনকি মাছ, মাংস ও মুরগি বিক্রেতারাও অবাধেই পলিথিন ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়। পলিথিন প্রকাশ্যে বিক্রিও করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখছেন পরিবেশের জন্য মারাক্তক ক্ষতিকর পলিথিন। তবে এ নিয়ে নিয়ন্ত্রণ কর্তাদেরও কোনো ধরনের অভিযান চোখে পড়ে না।
পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, মজুদকরণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করে ২০০২ সালে আইন পাস হওয়ার পর সারাদেশে কমে যায় পলিথিনের ব্যবহার। তবে সেই সোনালী দিন খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়। সব জায়গায় আবারও ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশদূষণকারী পলিব্যাগ। এ নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পড়্গ থেকেও কোনো নজরদারি নেই।
সে আইন অনুযায়ী ক্ষতিকর এ পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছিল ২০০২ সালেই। এটি বাসত্মবায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬ (ক) ধারাটি সংযোজন করা হয়। আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দ-ও হতে পারে।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর সাহেববাজার, স্টেশন বাজার, শালবাগান, হড়গ্রাম, কোর্টসহ রাজশাহীর সকল বাজারে অবাধে পলিথিন ব্যবহার ও বেচাকেনা করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা সেই পলিথিনেই ভরসা রেখে সওদা নিয়ে যাচ্ছেন খুশি মনে। বাজারগুলোতে হাতলওয়ালা পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের এটা বন্ধেও নেই কোনো উদ্যোগ।
গতকাল সকালে কাঁচাবাজর থেকে সবজি কিনে পলিব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন কুমারপাড়ার বাসিন্দা বিজয় কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হলেও সবাই ব্যবহার করছে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো ব্যাগ বাজারে তেমন একটা দেখা যায় না। আর বিক্রেতারাও পণ্যগুলো পলিথিনে দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমাদেরও নিয়ে যেতে হয়। প্রতিদিনতো বাসায় ৫ থেকে ৬টি পলিখিন ব্যাগ যায়ই।
এদিকে, জীবন বাঁচানো ওষুধও যাচ্ছে পলিথিনেই। সাহেববাজার মুন লাইট থেকে পলিথিনে ওষুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাসুদ রানা । তিনি বলেন, পলিথিন ব্যবহার নিষেধ তিনি সেটা জানেন। এখন দোকানী যাতে মাল দেবে তাতেই তো নিতে হবে।
সহজপ্রাপ্তি আর মূল্য কম হওয়ায় অন্য ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিনে আগ্রহ বেশি বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বাজারের বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সরকার পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বাজারে এখনও পলিথিনের সরবরাহ রয়েছে। বরং পাট বা অন্য ব্যাগের সরবরাহ কম। আর পলিথিন দামেও সসত্মা। তাই পলিথিন ব্যবহারের প্রতিই তারা আকৃষ্ট।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তন্ময় স্যানাল বলেন, পরিবেশদূষণে মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিনের নিয়মিত ব্যবহার দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অপচনশীল এ পদার্থ পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। ফলে মাটি-পানি দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের আইনে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। এটির কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে এর ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের সাথে একাধিকরার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, আমারা উচ্ছেদ আভিযান নিয়েই বেশি ব্যসত্ম থাকি। তবে এটা আমারা করতে পারি না এমনটি নয়। পলিথিন আমাদের পরিবেশের অনেক ড়্গতি করে। এ বিষয়ে আমাদের গুরম্নত্ব দেওয়া উচিত।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নজরম্নল ইসলাম বলেন, আমাদের অন্য অভিযান চলছে। তবে পলিথিন নিয়ে আলাদা কোন অভিযান চালাতো হয়নি। গত এক বছরে আমার এখানে আসা হলো এর মধ্যে হয়নি। তবে আগামীতে এ বিষয়ে অভিযান হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) হামিদুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অভিযান হয়নি। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে রাজশাহীর বাজারগুলোতে এ বিষয়ে অভিযান চালানো হবে। পরিবেশ আইনে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।