বিশেষ প্রতিবেদক : রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দির স্বজনদের বস্ন্যাকমেলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা চক্রটি রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। যাতে করে ধারাবাহিকভাবেই ঘটে চলেছে প্রতারনার ঘটনা।
সূত্র বলছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি কারা কর্তৃপড়্গের নাম পদবী ভাঙ্গিয়ে চিটারী চালিয়ে আসছে। প্রতারক চক্রটি কারাবন্দীর অসুস্থতা কখনো বা অন্য কোন সমস্যার কথা তুলে ধরে কারাবন্দীর স্বজনদের মোবাইলে কখনো অসুস্থতার কথা, কখনো বা জেল কর্মীর সাথে খারাপ আচরণের কারণে শাসিত্মর কথা বলে অর্থ দাবি করে আসছে। সমপ্রতি এমন একটি ঘটনা আবারো ঘটেছে।
জানা গেছে, জেলার মোহনপুরের দূর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিড়্গক লিয়াকত আলীর পুত্র কারাবন্দি ইমরানের অসুস্থতার কথা বলে তার কাছে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্র। লিয়াকত আলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে ০১৭১৩-৮২৮২২৮ নম্বরের মোবাইল থেকে লিয়াকত আলীকে ফোন দিয়ে বলা হয়, তার ছেলে ইমরান জেলখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনই সে যেন জেলার সাহেবের সাথে যোগাযোগ করে। ফোনকারি তার নাম জানায় জাহাঙ্গীর। এসময় সে জেলারেরও নাম্বার দেয়। তার দেয়া নাম্বার অনুযায়ি ০১৭৩৩-৯৮৫১১২ এই মোবাইলে ফোন দেয়া হলে এই নম্বর ব্যবহারকারী জেলার পরিচয় দিয়ে বলে, তার ছেলে ইমরান হৃদরোগে আক্রানত্ম হয়েছে এবং তাকে জরম্নরিভিত্তিতে বগুড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সে আইসিইউ’এ ভর্ত্তি আছে। তার অপারেশন লাগবে। অপারেশনে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লাগবে। যার অর্ধেক জেল কর্তৃপড়্গ দেবে বাঁকী অর্ধেক পরিবারেরকে দিতে হবে। একথা বলে সে লিয়াকত আলীকে একটি নাম্বার দিয়ে বলে এটি ডাক্তারের নাম্বার এখনই তার সাথে যোগাযোগ করতে সে অনুযায়ি লিয়াকত আলী ০১৮২৫-০২৮২৮৮ নাম্বারে ফোন দিলে ফোন রিসিভকারি হাসপাতালের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বলে, ইমরানের অবস্থা শোচনীয় তাকে জরম্নরি ভিত্তিতে এখনই অপারেশন করতে হবে। এর জন্য এ মুহুর্তে ৭০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে এবং সে টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নাম্বার দেয়। নাম্বার টি ০১৯৫২-০৮৪৬২৬। বিষয়টি লিয়াকত আলী তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে জেলারের নাম্বারে ফোন দেয়া হলে তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়লে অন্যান্য নাম্বারগুলিতেও পর্যায়ক্রমে ফোন দেয়া হলে একই অবস্থা দেখা দেয়। পরদিন লিয়াকত আলীর পরিবার জেলখানায় এসে জানতে পারে ইমরান জেলখানাতে সুস্থ আছে। বিষয়টি মোহনপুর থানাকে জানানো হয়েছে।
কয়েক মাস পূর্বে প্রতারকরা রাজশাহীর আইনজীবীদের টার্গেট করে পাইকারিহারে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়। আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতারকরা তাদের ফোন দিয়ে জানায়, আপনার মক্কেল জেলখানায় গ-োগোল করার কারণে তাকে শাসিত্মস্বরূপ রাজশাহীর বাইরের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। যদি এটা ঠেকাতে চান তাহলে আপনার মক্কেলের স্বজনদের খবর দেন তারা যেন জরম্নরীভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করে। তাহলে বিষয়টি মিমাংশা করা যাবে। সংশিস্নষ্ট আইনজীবী মক্কেলের স্বার্থে তাদের স্বজনদের উলেস্নখিত মোবাইলে যোগযোগ করতে বলেন। আর প্রতারক চক্রটি তখন বিকাশের মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করেছে।
বিভিন্নভাবে ভিন্ন পরিচয়ে বেড়েই চলেছে মোবাইল ফোনে চিটারী কার্যক্রম। তা দিন দিন শাখা প্রশাখা বিসত্মার করছে। জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে সকল সীমা। চক্রটি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল আবলম্বন করে সর্বত্র বিসত্মার করছে জালিয়াতির থাবা। এদের সীমাহীন দৌরাত্মে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে জালিয়াত চক্র প্রতারণা করে গেলেও এদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। কখনো বিকাশের মাধ্যমে ভুয়া ম্যাসেজ দিয়ে, কখনো জিনের বাদশা সেজে, কখনো বা কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে পুরস্কার পাওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের কষ্টের অর্থ।
অসহায় বন্দিদের নিয়ে যে প্রতারণা শুরম্ন হয়েছে তা শুধু অমানবিক নয়, ছাড়িয়ে গেছে সকল নিষ্ঠুরতাকেও। ভুক্তভোগিরা বলছেন, মোবাইলের মাধ্যমে অপকর্ম রোধ এবং বস্ন্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ রোধে মোবাইল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হলেও অনিবন্ধিত সীম রয়েছে প্রতারকদের হাতে। যাতে করে বন্ধ হচ্ছে না অপকর্ম। বরং তা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্যভাবে। এমনকি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সীম ক্লোন করেও চলছে চিটারীর ঘটনা।