এফএনএস: প্রতিবছরের ৪ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ হিসেবে উদযাপনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের ‘খ’তে এটি অনত্মর্ভুক্তকরণের প্রসত্মাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উদযাপন মানে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে আজকে বস্ত্র দিবস।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাধীনতা এবং বিজয়কে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। বস্ত্র সেক্টর আমাদের সর্বোচ্চ যোগানদাতা। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় আমরা বস্ত্র খাত থেকেই পাই। এর আগে স্বাধীনতার মাস মার্চে পাট দিবস এবং বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বস্ত্র দিবস পালনের প্রসত্মাব করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
এছাড়া, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসএমইখাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং অন্যান্য সুবিধা সহজে একটি নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতিড়্গুদ্র, ড়্গুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান হলো প্রায় ২৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, এসএমই’র বাইরে মাইক্রো এবং কুটিরশিল্পও যুক্ত করা হয়েছে। মাইক্রো, কুটির, ড়্গুদ্র ও মাঝারি শিল্প মিলে এসএমই। মোটামুটি সারা পৃথিবীতেই এভাবেই এসএমই গণ্য করা হয়। ছয়টি উদ্দেশ্য সামনে রেখে নীতিমালা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, ব্যবসায় সহযোগিতা এবং তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি। নীতিমালায় বাসত্মবায়ন কৌশলে বলা হয়েছে, কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমইখাতের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এসএমইখাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা।
এই ফান্ড চালু হলে মটগেজ থাকবে না, অর্থপ্রাপ্তি সহজ হবে। সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (স্টার্টআপ) করার ক্ষেত্রে সহায়তা করা, অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নীতিমালায় ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং ও আইটিভিত্তিক অ্যাপিস্নকেশনের মাধ্যমে এসএমই’দের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঋণ দেওয়া, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুব্ধকরণ এবং বাজার সংযোগে সুযোগ বৃদ্ধি করা। টেকসইয়ের জন্য ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। এসএমই তথ্যভান্ডার তৈরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমই’দের উৎসাহিতকরণ, শিল্প বর্জ ব্যবস্থাপনায় এসএমই’দের প্রণোদনা দেওয়া, পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এসব নীতি-কৌশল বাসত্মবায়নের জন্য দুই ধরনের পর্ষদ থাকবে। শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ জনের পর্ষদে প্রতিমন্ত্রী সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বেসরকারিখাতের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। আর সচিবের নেতৃত্বে পর্ষদে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৯ জন সদস্য থাকবেন। এই নীতিমালা ২০১৯-২০২৪ সালের জুন পর্যনত্ম কার্যকর করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তারা এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যাংক থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যনত্ম ঋণ সুবিধা পায় বলে ব্রিফিংয়ে জানান শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩৬টি অ্যাকটিভিটিজ ও ৬২টি কৌশল আছে। সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বলে দেওয়া রয়েছে কী কী অর্জন করতে হবে। এগুলো বাসত্মবায়িত হলে ২০২৫ সালে এসএমইখাতে জিডিপিতে অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে। এসএমই এর জন্য ২০০৫ সালে একটি কৌশল ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এবারই প্রথম নীতিমালা হলো।
পরমাণু বিজ্ঞানী নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক: বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সভার শুরম্নতে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোকপ্রকাশ করেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নঈম চৌধুরী (৭৪)।