বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল সোমবার। ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে নিজ কড়্গ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদনেত্ম প্রমাণ হয় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিড়্গিকা আকতার জাহানের এমন আত্মহত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন শিড়্গিকা আকতার জাহানের ভাই কামরম্নল ইসলাম বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। আর শিড়্গিকার আত্মহত্যার ঘটনায় বিভাগের কোনো শিড়্গকেরই প্ররোচনা আছে -এমন দাবি করে জড়িতের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামে বিভাগের শিড়্গক-শিড়্গার্থীরা। ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আকতার জাহান জলির সাবেক স্বামী একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ ও জুনিয়র সহকর্মী সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
২০১৭ সালের আগস্টে ওই মামলায় আতিকুর রহমানকে আসামি করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ব্রজ গোপাল। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। আর মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় শিড়্গক আতিকুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ।
এদিকে, শিড়্গিকা আকতার জাহান জলির প্রথম ও দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যালি, স্মরণসভাসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। তবে তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি বিভাগ। এ নিয়ে শিড়্গার্থীদের মধ্যে চাপা ড়্গোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন শিড়্গার্থী বলেন, গত দুই বছরই আকতার জাহান ম্যামের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেখানে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের শাসিত্মর দাবিও জানানো হয়। অথচ এবার কিছুই হলো না। নীরবে সবকিছু পার হয়ে গেল। যারা এবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে, তারা তো বিষয়টি জানতেই পারবে না। বিভাগের শিড়্গকদের গ্রম্নপিংয়ের কারণে এমনটি হতে পারে বলে মনত্মব্য ওই শিড়্গার্থীর।
মাস্টার্সের তিন জন শিড়্গার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই ধরনের মনত্মব্য করেন। তবে একাডেমিক ড়্গতি হতে পারে শঙ্কায় কেউ গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আব্দুলস্নাহ আল মামুন বলেন, প্রতি বছর কর্মসূচি করতে হবে এমনটা তো নয়। তবুও বিষয়টি নিয়ে আমি বিভাগের বেশ কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা এবার কর্মসূচি গ্রহণ না করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। আমিও মনে করেছি- এবার কর্মসূচি করার অনুকূল পরিবেশ নেই। তাই করা হয়নি।
মামলার বিচার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার বিচারকাজ প্রায় শেষ দিকে। আশা করি দ্রম্নত রায় ঘোষণা করা হবে। আমরা সঠিক ও ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি।