এফএনএস: ধীরে ধীরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। ইতোপূর্বে সেপ্টেম্বরকে চিকিৎসকরা ‘ডেঙ্গুর পিক টাইম’ বললেও আগস্টের তুলনায় এই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্তও হওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিকে ‘মাঝারি নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর-সংশিস্নষ্টরা।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ভর্তি থাকা রোগী ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দুই ধরনের রোগীর সংখ্যা কমেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগী কমার কথা জানিয়েছে। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান বলেন, ডেঙ্গু কমে এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে একটু স্বসিত্ম পাওয়া যাবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার মেডিসিন বিভাগের নারী ওয়ার্ডের নয় নম্বর ইউনিটের ইনডোর মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. এস এম রিয়াশাত বলেন, এই ওয়ার্ডে সাত জন ডেঙ্গু রোগীর সবাই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর কেউ ভর্তি নেই হাসপাতালে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রম্নম জানায়, গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমাবর পর্যনত্ম ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রানেত্মর হার আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৬ শতাংশ।
এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হয়েছেন ৭১৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮৫১ জন। আর গত রোববার ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৬১ জন, ৭ সেপ্টেম্বর ছিল ৬০৭ জন, ৬ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৯৩ জন, ৫ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৮৮ জন, ৪ সেপ্টেম্বর ছিল ৮২০ জন আর ৩ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৮৩ জন। নতুন আক্রানত্ম হওয়া রোগীর মধ্যে রাজধানী ঢাকায়ই আক্রানত্ম হয়েছেন ৩০০ জন। আর সারাদেশে আক্রানত্ম হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪১৬ জন। ঢাকার ভেতরে এ সময় ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৭০ জন, আর ঢাকার বাইরে ৪৮১ জন। সারাদেশে এই সময়ে মোট ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৯১ জন। এরমধ্যে, ঢাকা মহানগরীতে ভর্তি আছেন এক হাজার ৫২২ জন।
ঢাকার বাইরে রয়েছেন এক হাজার ৫৬৯ জন। সারাদেশে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ শতাংশ রোগী। এদিকে, সেপ্টেম্বরের প্রথম নয়দিনে আক্রানত্ম হয়েছেন ছয় হাজার ১৩৩ জন, যা গত মাসের প্রথম ছিল ১৮ হাজার ২০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার ভেতরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১২টি হাসপাতালের মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৭৯ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৫৭ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৬ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একজন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, বিজিবি হাসপাতালে একজন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঁচ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১৩ জন, কুয়েত বাংলাদেশে মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে তিন জন, পঙ্গু হাসপাতালে একজন। বেসরকারি ২৯টি হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ৭৬ জন। এদিকে, রাজধানী ঢাকা ছাড়া ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৪১৬ জন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, খুলনা বিভাগে ১৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩২ জন, রংপুর বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৮ জন এবং সিলেট বিভাগে সাত জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, নতুন করে ডেঙ্গু আক্রানেত্মর সংখ্যা কমছে। তবে, বিষয়টিকে কোনোভাবেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বলা যাবে না। অনেকটা মাঝারি মানের নিয়ন্ত্রণ বলা যেতে পারে। এই সংখ্যা আরও কমিয়ে আনতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে। এরপরও প্রতিদিন যেভাবে আক্রানত্ম হচ্ছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ সংখ্যা জিরোতে নামিয়ে আনতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রম্নমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, এখনও পুরোপুরি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কারণ, সেপ্টেম্বর মাস এখনও পুরোটা বাকি।
এরপরও আশা করি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে স্বসিত্মর কথা হচ্ছে, নতুন করে আক্রানেত্মর সংখ্যা কমছে। তাই আশঙ্কাও কমেছে। একইসঙ্গে জনগণ যদি সচেতন থাকেন, তাহলে আর বাড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। আর এক হাজারের নিচে রোগীর সংখ্যা এলেও পাঁচশ বা চারশর মধ্যে এখনও রোগী আসেননি। হয়তো আগস্টের মতো পিকে যাবে না, সে রকম হবে না। এখনও ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেও তিনি জানান।