স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ১২ জন প্রকৌশলীর নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের অভিযানের পর এ বিষয়টি বিএমডিএ’র নজরে আসে। এর পরিপ্রেড়্গিতে ১২ জন কর্মকর্তাকে তাৎড়্গণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী। তবে ‘উপর মহল’ সেই আদেশ স্থগিত করেছে।
বিএমডিএ’র কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ হয়। এর পরিপ্রেড়্গিতে দুদকের উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মাসুদুর রহমান গত বুধবার এক আদেশে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে তদনত্ম করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেন। এ আদেশের পরদিনই বৃহস্পতিবার দুদকের দুই কর্মকর্তা বিএমডিএ’তে অনুসন্ধানে যান।
অনুসন্ধান শেষে দলের প্রধান দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেছিলেন, পদোন্নতি, কোটেশনের মাধ্যমে কেনাকাটা এবং আমবাগান ইজারাসহ আরও কয়েকটি খাতে সাত কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদনত্ম প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদড়্গেপ নেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, দুদকের এই অভিযানের দিনই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণে বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী আটজন প্রকৌশলীকে তাৎড়্গণিক বদলির আদেশ দেন। এদের গতকাল রোববারের মধ্যে নিজ নিজ দপ্তর ত্যাগ করতে বলা হয়। এছাড়া গতকাল সকালে একই কারণে আরও চার কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেন চেয়ারম্যান।
তার নির্দেশে বিএমডিএ সচিব আশরাফুল ইসলাম প্রথম আটজনকে বদলির আদেশে স্বাড়্গর করেন। আর তার অনুপস্থিতিতে পরের চারজনকে বদলির আদেশে স্বাড়্গর করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশীদ। কিন্তু গতকাল বিকালেই আবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপড়্গের নির্দেশে সব বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার যেসব কর্মকর্তাদের বিরম্নদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তারা হলেন- প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হোদা ও ড. আবুল কাশেম; নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও তরিকুল ইসলাম; ঠাকুরগাঁও সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, জয়পুরহাট রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমনত্ম কুমার বসাক, রাজশাহীর পবা জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাহাত পারভেজ এবং দুর্গাপুর জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামসুল আলম।
আর গতকাল যাদের বদলি করা হয়েছিল তারা হলেন- বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) এনামুল কাদির ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান; রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর ইসলাম এবং নওগাঁ জোনের প্রকৌশলী আবদুল মালেক। এদের মধ্যে মাহফুজুর রহমানকে রংপুরে পাঠানো হচ্ছিল। আর আবদুল মালেক ও নূর ইসলামকে প্রধান কার্যালয়ে আনা হচ্ছিল।
জানতে চাইলে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, এগুলো স্ট্যান্ড রিলিজ নয়। বিভিন্ন পদে রদবদল করা হচ্ছিল। চেয়ারম্যানের নির্দেশে সচিব এবং আমি বদলির আদেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু ‘উপর মহলের’ নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়েছে। ‘উপর মহল’ কে তা জানতে চাইলে আবদুর রশীদ বলেন, সেটা চেয়ারম্যানের চেয়েও বড়। সেইভাবে কারও নাম বলা যাবে না।
বিএমডিএ’র সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকায়। বদলির আদেশের বিষয়টি জানি। কিন্তু আদেশ স্থগিতের বিষয়টি জানা নেই। কথা বলতে বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীকেও ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরার কারণে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএমডিএ একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরম্নদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যনত্ম অডিট আপত্তি, কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি প্রকৌশলী ভবন নির্মাণ করেও সেখানে না থাকা, পিপিআর অমান্য করে খ- খ- আকারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি, গোদাগাড়ীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসেব জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল প্রদান ও পলস্নী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার।
গেল বৃহস্পতিবার দুদকের অনুসন্ধানকারী দল এসব অনিয়ম দেখতে পায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি এবং আমার অফিসপ্রধান ছুটিতে আছি। ছুটি শেষ হলেই তদনত্ম প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে যা নির্দেশনা দেওয়া হবে সেভাবে পরবর্তী পদড়্গেপ গ্রহণ করা হবে।