বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি চাকরি পাবে না মাদকাসক্তরা। কারণ সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে সব প্রার্থীরই স্বাস্থ্য পরীড়্গার সময় ডোপ টেস্ট করা হবে। ফলে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মাদকে আসক্তরা সরকারি চাকরি পাবে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তাদের মতে চাকরিতে যোগদানের আগে যেমন ডোপ টেস্ট হওয়া জরম্নরি তেমনি চাকুরিতে যারা বহাল আছেন তাদেরও ডোপ টেস্ট হওয়া জরম্নরি। আইন শৃংখলা রড়্গা বাহিনী থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিলেই দেখা মিলবে ঘাপটি মেরে থাকা মাদকাসক্তদের। মাদকমুক্ত দেশ গড়তে হলে এসকল মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে হবে। মাদক গ্রহণ করলে ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়বে। আর ডোপ টেস্ট শুরম্ন হলে পজেটিভ প্রভাব পড়বে সমাজে। পশ্চিমা অনেক দেশের আদলে বাংলাদেশেও ডোপ টেস্ট চালুর প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সংক্রানত্ম এমন একটি প্রতিবেদন সমপ্রতি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এফএনএস। আর তা বাসত্মবায়ন করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংশিস্নষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদন করে বার্তা সংস্থা এফএনএস।
সংশিস্নষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয় দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সতর্ক ও সচেতন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত অভিভাবকদের টনক নড়ানোর জন্যই এসব উদ্যোগ নেয়া হয়। তার মধ্যে মাদকাসক্তদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য করার জন্য ডোপ টেস্ট পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ অন্যতম। ইতিমধ্যে এই সংক্রানত্ম একটি সারসংড়্গেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী ওই সারসংড়্গেপ অনুমোদন করেন। আর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন তা বাসত্মবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রড়্গায় এ উদ্যোগ প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে।
বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল মনে করে শুধু নিয়োগের ড়্গেত্রে নয়, যারা চাকরিতে বহাল আছে এমনদেরও ডোপ টেস্ট করা হলে তা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, সরকারি এবং বেসরকারি চাকরিতে কর্মরতদের কেউ কেউ মাদক সেবী। কাজেই শুধু চাকরী প্রত্যাশিতদেরই নয়, যারা চাকরিতে নিয়োজিত আছেন তাদেরও ডোপ টেস্ট হওয়া প্রয়োজন। যদি এটি শুরম্ন করা যায় তাহলে তা জাতির জন্য আর বেশি মঙ্গল বয়ে আনবে।
এ সংক্রানেত্ম প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি সিভিল সার্জনের অফিসেই সরকারি চাকরির মৌখিক পরীড়্গায় উত্তীর্ণের পর চূড়ানত্ম বাছাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীড়্গা করতে হয়। এখন তার সঙ্গে যোগ হবে ডোপ টেস্ট। ডোপ টেস্টের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। ল্যাবে সরাসরি রক্ত ও প্রশ্রাব পরীড়্গায় মাদকের কিছু লড়্গণ ধরা পড়ে। আবার দ্রম্নতগতিতে মুহূর্তেই সন্দেহজনক মাদকাসক্তদের পরীড়্গা করার জন্য বর্তমানে অত্যাধুনিক মানের বিশেষ কিট রয়েছে, যা শরীরে স্পর্শ করা মাত্রই নেগেটিভ-পজেটিভ রেজাল্ট দেবে। তবে আপাতত প্রতিটি জেলা পর্যায়ে রক্ত ও প্রশ্রাব পরীড়্গার মাধ্যমেই মাদকাসক্ত শনাক্ত করা হবে। ধাপে ধাপে বিশেষ ইকুপমেন্ট ও কেমিক্যালস যোগান দেয়া হবে। মূলত দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সমাজে কোণঠাসা করার মতো শাসিত্ম দেয়ার মানসিকতা থেকেই এমন সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। এটি বাসত্মবায়ন করা হলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উচ্চশিড়্গিত তরম্নণ সমাজই নয়, অর্ধশিড়্গিত বেকারও আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যাবে। সরকারি চাকরি পেতে হলে মাদক ছাড়তে হবে, নইলে বেকার থাকতে হবে। পিয়ন থেকে বিসিএস ক্যাডার- কেউ এ শাসিত্ম থেকে রেহাই পাবে না।
সূত্র আর জানায়, উচ্চশিড়্গিত বেকার যুবকদের অনেকেই হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হয়। মেধার জোরে তাদের অনেকেই পরে বিসিএস-এর মতো কঠিন পরীড়্গাতেও টিকে যায় এবং তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীড়্গায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগদান করে। ডোপ টেস্টের পর আর সেই সুযোগ থাকছে না। ডোপ টেস্ট ছাড়া যখন চাকরি পাওয়া যাবে না, তখন বাধ্য হয়েই নিজের প্রয়োজনেই তরম্নণরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। কারণ একজন মেধাবী যখন সবকটা পরীড়্গায় উত্তীর্ণ হয়ে শুধু ডোপ টেস্টের কারণে চাকরি থেকে বাদ পড়বে, তখন সে নিজ পরিবার ও সমাজের কাছে ধরা পড়ে যাবে। যা হবে ওই পরিবারের প্রার্থীর জন্য অত্যনত্ম বিব্রতকর। এমন কঠিন পরিণতির কথা ভেবেই চাকরিপ্রার্থীরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। যারা মাদকাসক্ত হয়ে গেছে তারা সরে আসবে ওই পঙ্কিল পথ থেকে। সচেতন মহল মনে করে, ইতিমধ্যেই মাদকাসক্তদের অনেকেই চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। যারা লালন পালন করবে অন্যদের। কাজেই শুরম্ন হতে হবে গোড়া থেকে। অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রির এই প্রসংশনীয় উদ্যোগ যেন সঠিকভাবে বাসত্মবায়ন হয়। তাহলে দেশ মাদকের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরম্ন করবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই ড্রাগ এডিক্টদের ঘৃণার চোখে দেখা হয়। অনেক দেশেই তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অবাঞ্ছিত করা হয়। সরকারি চাকরিতেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আমাদের দেশেও ওই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে অবশ্যই তা মাদক নির্মূলে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। কারণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার মতো মাদক কেউ শুধু একবার খেয়েই ছেড়ে দেয় না। কিংবা মাসে দু’একবার খায় না। ওগুলো যারা খায় তারা নিয়মিতই খায়। প্রতিদিন তাদের খেতে হয়। তারা হার্ডকোর ড্রাগস এডিক্টস বা পেশাদার মাদকাসক্ত বলে চিহ্নিত। ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়বেই।
সচেতন মহল দেশের কল্যাণে যত দ্রম্নত সম্ভব এই সিদ্ধানত্ম বাসত্ময়ানে কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। এতে করে চাকরিপ্রত্যাশি এবং কর্মরতদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।