বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কর্মচারী ক্লাবে জুয়ার আসর চলাকালে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল বডি ও মতিহার থানা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় ১২ জনকে। যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ছিল ছয়জন। অপর ছয়জন ছিলেন বহিরাগত।
ছয় কর্মচারী মুচলেকায় ছাড়া পেলেও বহিরাগত ছয়জনকে জুয়া খেলার অপরাধে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পরদিন তাদের রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে আসামিপড়্গের আইনজীবী গ্রেফতারকৃতদের জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপড়্গ তাতে আপত্তি জানান। তবে যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক গ্রেফতারকৃতদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক নূর আলম মোহাম্মদ নিপু।
মামলার শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপড়্গের কৌসুলি আদালতকে জানান, ‘রাবির চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ক্লাবের কার্যালয়টি বিনোদনের মাধ্যম হলেও তা বর্তমানে জুয়ার আসরে পরিণত হয়েছে।’ কৌসুলির এমন তথ্যে বিচারক রাবি প্রক্টরের সহায়তায় মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানকে ক্লাবটি সিলগালা করে রাখার নির্দেশ দেন। বিচারক তাঁর মনত্মব্যে উলেস্নখ করেন- ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চশিড়্গা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জুয়ার আসর থাকা হতাশাব্যাঞ্জক ও দুঃখজনক।’
তবে আদালতের নির্দেশের ৪ দিন পার হলেও তা মানা হয়নি। ক্লাবে চলছে আগের মতোই হই-হুলেস্নাড় এবং লুকোচুরি করে জুয়া খেলা। মতিহার থানা পুলিশ বলছে- প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যনত্মরে কোনো কার্যক্রম করতে পারি না। তবে প্রক্টরের দাবি- তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। অল্পদিনের মধ্যেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিলগালা করে দেয়া হবে।
জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অনুমতি ব্যতিত ক্যাম্পাসের অভ্যনত্মরে কোনো অভিযান বা কোনো কার্যক্রম করতে পারি না। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন সেটা অবগত, প্রক্টরের অনুমতি পেলে সিলগালা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে- প্রক্টরের সহযোগিতায় মতিহার থানার ওসিকে সিলগালা করতে। আমি মতিহার থানার ওসিকে বলেছি- তিনি চলতি সপ্তাহে সিলগালা করবেন।