তৈয়বুর রহমান: উচ্ছেদ শেষ হতে না হতেই নগরীতে আবার গড়ে উঠতে শুরম্ন করেছে অবৈধ স্থাপনা। গত দুই মাসের অধিককাল ধরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চালিয়ে আসছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
এ সময় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মাস্টারপাড়া কাঁচা বাজার, গোরহাঙ্গা রেলগেট থেকে শালবাগান বাজার, আলুপট্টি থেকে সাগরপাড়া হয়ে রেলস্টেশন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্মুখস্থ ফুটপাত, লক্ষ্মীপুর মোড়, হড়গ্রাম বাজার, বিনোদপুর বাজারসহ গোটা নগর জুড়ে চলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। এতে অনেকেই সর্বস্বানত্ম হয়েছে। অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে পথে বসেছে। অথচ উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই রাসিকের চোখের সামনে অবৈধ স্থাপনা আবার বসাতে শুরম্ন করেছে সুযোগ সন্ধানীরা।
একমাত্র জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ফুটপাতে সকাল বেলা দোকান বন্ধ থাকলেও নগর জুড়ে অবৈধ স্থাপনা পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে বলে ঐসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে। নগরীর অধিকাংশ মোড়ের ফুটপাতে পুনরায় গড়ে উঠছে অবৈধ স্থায়ী এবং অস্থায়ী স্থাপনা। এ সম্পর্কে রাসত্মার পাশের এক ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, এতো তোড়জোড় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কি লাভ হলো। শুধু শুধু কিছু লোকের মুখের আহার কেড়ে নেয়া হলো।
এদিকে, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট হতে মনিচত্বর পর্যনত্ম ফুটপাতে ও রাসত্মার ওপর গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অস্থায়ী পণ্যের দোকান। মনিচত্বর হতে সিটি সেন্টারের সামনে রাসত্মার ফুটপাতের ওপর প্রতিদিন বসছে কাপড়ের দোকান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মুখের ফুটপাত জুড়ে চলছে স্থায়ী হোটেলসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান।
আর গোরহাঙ্গা রেলগেট হতে স্টেডিয়াম মার্কেট পর্যনত্ম রাসত্মার একপাশজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বাস, টেম্পু, অটোরিকশা। এরফলে রাসত্মা সুরম্ন হয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার কারণে গত বছর হাইকোর্টের নির্দেশে সেখানে স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সে সময়ও উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, নগরীর বন্ধ গেট থেকে সিটি বাইপাস বাস স্ট্যান্ড পর্যনত্ম পুরাতন ফার্নিচার দিয়ে ফুটপাত দখল হয়ে গেছে পুরাতন কাঠের ফার্নিচারের দোকানিরা। এরফলে ঐ ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। আর বহরমপুর থেকে কোর্ট স্টেশন, কাশিয়াডাঙা মোড়, বর্ণালী থেকে দড়িখড়বোনা মোড় পর্যনত্ম ওয়েল্ডিং-এর দোকান রেলওয়ের জায়গা, আর সামনের ফুটপাত, পুরাতন বাস টার্মিনাল হতে রেশম উন্নয়ন বোর্ড পর্যনত্ম ভাঙড়ির মালামাল রেখে ফুটপাত দখল করে রেখেছে ভাঙড়ির দোকানগুলো। বিন্দুর মোড়ে ফুটপাতে আগের মতই চলছে ভাজা-পোড়ার দোকান। আর বিনোদপুর মোড়ের রাসত্মার দু’ধারে ডিভাইডার থাকলেও তার মধ্যেই দখল করে আছে ড়্গুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ঐসব স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলে গত মাসে। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন যাদের স্থাপনা ছিল তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এতে যারা ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছেন তাদের অনেকেই ঐসব স্থানে নতুন করে দোকান বসাতে পারেনি। অন্যরা সে স্থান পূরণ করেছে। ফুটপাতে যারা ব্যবসা করেন তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া এমনটি চলতেই থাকবে।
অনেকের মতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নগরীর পথচারিদের চলাচলের সুবিধার জন্য হলেও তা স্থায়ী না হওয়ায় শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরা ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছেন। নগরীর কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন ফুটপাতের ব্যবসায়ী ইশাহাক আলী বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জনগণের কল্যাণে বলা হলেও তা জনগণের ড়্গতির কারণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।