কোন নারীই আর ঘরে আবদ্ধ থাকতে চান না। নানা কাজে নারীর অংশগ্রহণ এখন চোখে পড়ার মতো। সামাজিক অগ্রগতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাবলম্বি হওয়ার সুযোগে নারীর পরনির্ভরতা কমছে, পরিবার ও সমাজে কদরও বেড়েছে। তবে কর্ম পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও মজুরি বৈষম্যের ৰেত্রে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় শ্রমজীবী- কর্মজীবী নারীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। যা হতাশা ও অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শ্রমবাজারে গ্রামীণ নারীর সংখ্যাবৃদ্ধি চমকপ্রদ। আজ থেকে ১৫ বছর আগেও কর্মজীবী শহুরে নারীর সংখ্যা বেশি ছিল। এখন তা পাল্টে গেছে। ২০১০ সালের এক জরিপে শহর-গ্রাম মিলিয়ে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৩৬ শতাংশ, ২০০৫ সালে যা ছিল ২৯ শতাংশ। এৰেত্রে গ্রামীণ নারীদের এগিয়ে আসার প্রমাণ মেলে ২০১৫-১৭ সালের হিসাবে। গ্রামে শ্রমজীবী নারীর সংখ্যা ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও শহরে এই সংখ্যা ৩১ শতাংশ। গ্রামের শ্রমজীবী নারীর ৬০ শতাংশই কৃষিকাজে আর শহরে ৬০ দশমিক ৮ শতাংশই পোশাক শিল্পে কর্মরত। যদিও এই সংখ্যা আগে ছিল ৬৪ শতাংশ।
শ্রমবাজারে নারীর সংখ্যাবৃদ্ধি আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির নির্দেশক হলেও কর্মৰেত্রে নারী এখনও বঞ্চিত-নির্যাতিত। একই কাজ করলেও নারীর মজুরি পুর্বষের তুলনায় কম, কৃষিতে প্রায় অর্ধেক। আর কর্মৰেত্রে ও সমাজে নিরাপত্তাহীনতায় নারী সবসময়ই ঝুঁকিতে থাকে। এখনও আছে। যৌন হয়রানি তাদের পিছু ছাড়ে না। এর কঠিন মূল্য দিতে হয় নারীকেই। এৰেত্রে সমাজ বা রাষ্ট্র কার্যকর ভূমিকা পালনে পিছিয়েই আছে, জোর দিয়ে বলা যায়।
কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই শহরে শ্রমজীবী-কর্মজীবী নারীরা পিছিয়ে পড়ছে। আরেকটি কারণ দৰতার অভাব। শিৰা ও প্রশিৰণের অভাবেও শ্রমজীবী নারীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আর কর্মৰেত্রে নারী-পুর্বষের মজুরি বৈষম্য কমিয়ে আনা গেলে শ্রমবাজারে নারীর আগমন আরও বাড়বে নিঃসন্দেহে বলা যায়। শিৰিত নারীদের জন্য উপযুক্ত কাজের অভাবে ঘর-সংসারে আবদ্ধ থাকার হার কমছে না।
তাই কর্মসংস’ান বৃদ্ধি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তার নিশ্চয়তার পাশাপাশি মজুরি বৈষম্য দূর করা হলে অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ করে কর্মজীবী-শ্রমজীবী নারীর ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে।