এফএনএস: আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই রাজাকারদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করতে পারবেন বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ফেরার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আনত্মর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, খুব দ্রম্নত রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এবার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
আগামি মার্চের মধ্যেই রাজকারদের প্রাথমিক তালিকা করতে পারব। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরাবাসীর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এটি বাসত্মবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশ কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে। এর আগে গত শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা যান মন্ত্রী।
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিসত্মানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিসত্মানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শানিত্ম কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিসত্মান সরকার। একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আলবদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরম্নর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাসত্মবায়িত হয়নি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে।
মে মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিসত্মান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিসত্মান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাগে শূন্য ঘোষণা করে তাদের স্থলে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নামগুলো স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অনত্মর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ওই কার্যপত্রে দেখা যায়।