এফএনএস: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা বিরোধী রাজনীতিকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, আজকে বিরোধী দল বিএনপি যতই বিষোদগার করম্নক, চেঁচামেচি করম্নক, এটাই আজকে বাসত্মব যে, উন্নয়নে-অর্জনে শেখ হাসিনার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতিকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। নেতিবাচক রাজনীতি করে বিএনপির এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নেই।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ মনত্মব্য করেন। আসন্ন ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন মাসব্যাপী ‘জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে ঢাকা মহানগর যুবলীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে এই সঙ্কটের কারণেই বিএনপি বেহাল, দিশেহারা পথিকের মত, পথহারা পথিকের মত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে বিদেশিদের কাছে গিয়ে ধর্ণা দিচ্ছে, নালিশ করছে। বিদেশিদের কাছে দেশের বদনাম করছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা সবসময় চিনত্মা করি আগামি বছর নির্বাচন বিষয়ে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একজন সফল (স্টেটম্যান) রাষ্ট্র পরিচালক, যিনি আগামি প্রজন্মের কী হবে সেটা নিয়ে ভাবেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেন।
কর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনার যে মমতা এবং ভালোবাসা তা অতুলনীয়। আমি অসুস্থ থাকা অবস্থায় আমার জন্য শেখ হাসিনা যা করেছেন তা আমার মার থেকে কোনো অংশেই কম নয়। তিনি তার কর্মীদের মমতাময়ী মায়ের মতো ভালোবাসেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একসময় যুব রাজনীতি বলতে বোঝাতো অস্ত্রবাজি এবং সন্ত্রাসী সংগঠন। বাংলাদেশ যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারম্নক প্রমাণ করেছেন যুব রাজনীতি মানে সন্ত্রাসী কোনো সংগঠন নয়। যুব রাজনীতি মানে হচ্ছে পড়াশোনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে রাজনীতি করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকে শেখ হাসিনা নিজেকেও অতিক্রম করেছেন।
তার মেধা, সততা ও অক্লানত্ম পরিশ্রমে তিনি আওয়ামী লীগকেও অতিক্রম করে গেছেন। দেশের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী তার যে গ্রহণযোগ্যতা তার ধারে কাছেও আমাদের কেউ নেই। বাংলাদেশে এখন যে ম্যাজিক্যাল উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে, এই ম্যাজিক্যাল উন্নয়নের পেছনে রয়েছে শেখ হাসিনার ম্যাজিক্যাল লিডারশিপ।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। আর শেখ হাসিনা সেই দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন তার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনা জেগে থাকেন বলেই বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিনেত্ম ঘুমাতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনের জন্য ১৬ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন। আগামীকাল (আজ শনিবার) মনোনয়ন বোর্ডের সভা। বঙ্গবন্ধু পরিবারে কেউ প্রার্থিতায় নেই। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী ঠিক করব। এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর তার দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের টানাপড়েন নিয়ে আওয়ামী লীগে কোনো ‘মাথাব্যথা নেই’ বলে মনত্মব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কে চেয়ারম্যান হবে, কে বিরোধী দলের নেতা হবে- এটা তারাই নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না, আমাদের কোনো প্রয়োজনও নেই। বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন- সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের কোনো ‘পক্ষপাত নেই’ বলেও মনত্মব্য করেন সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের। মহাজোটের শরিক আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ হয়েই গত কয়েকটি নির্বাচন করেছে। দশম সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন এরশাদের স্ত্রী রওশন। আর এরশাদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের মন্ত্রিত্ব নিয়েছিলেন এ দলের কয়েকজন। ফলে ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা জোটে এরশাদের দলের।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবিতে জাতীয় পার্টি আবারও প্রধান বিরোধী দল হয়; এরশাদ হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। এরশাদ গত ১৪ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে তার ভাই জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, এটাই ছিল এরশাদের ইচ্ছা। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে এরশাদের স্ত্রী রওশন অভিযোগ করেন, জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করার আগে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি পাঠানো হয় জাতীয় পার্টির নামে।
এর পাল্টায় বুধবার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে রওশন বলেন, দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধানত্ম হয়নি। এরপর জাতীয় পার্টির একটি অংশ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে রওশনকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে এরশাদের দল ভাঙনের দুয়ারে পৌঁছে যায়। আর এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে সরকারের দিকে তাকিয়ে বলেও খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। সরকার যাকে চাইবে তিনিই বিরোধী দলীয় নেতা হবেন- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই কথা মিথ্যা। বিরোধীদলীয় নেতা যিনি নিয়ম অনুযায়ী হবেন, স্পিকার তাকেই নির্বাচিত করবেন। এখানে আমাদের পার্টির কোনো কিছু বলার নেই। আমরা অভ্যনত্মরীণ বিষয়ে হস্থক্ষেপ করতে চাই না। এখানে কোনো প্রকার হস্থক্ষেপের প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারম্নক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারম্নন-অর রশিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।