এফএনএস: কঙবাজারের উখিয়ায় শেড-এর কার্যালয় থেকে ২ সহস্রাধিক দা-হাতুড়িসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে এনজিওটিকে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে ক্ষতিগ্রসত্ম স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণের বৈধতা থাকায় সেগুলো ফেরত দেওয়া হয় বলে গত বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন কঙবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। কঙবাজারে বিভিন্ন এনজিও’র বিরম্নদ্ধে অভিযোগের মধ্যে দুপুরে শেডের কার্যালয় থেকে এই কৃষি সরঞ্জামগুলো জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন।
জব্দ করার পর উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরম্নল ইসলাম বলেছিলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এগুলো বিতরণের অনুমোদন রয়েছে কিনা তার অনুকূলে নথিপত্র দেখাতে সংস্থাটির সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৭০০ রাম দা, ৪০০ ছোরা, ১১০০ হাতুড়ি, ১২০০ হাতকরাত, ১২০০ তার কাটার পস্নাস, ২২০০ বেলচা, রশি, ইত্যাদি। রাতে জেলা প্রশাসক কামাল বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া শেড সংস্থাটির কার্যালয়ে বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জামাদি মজুদের খবরে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছিল। এসব সরঞ্জামাদি উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর সংস্থাটির সংশিস্নষ্টরা বিতরণের বৈধতার অনুমতিপত্র উপস্থাপন করেন। আনত্মর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে শেড জব্দ করা সরঞ্জমাদি মজুদ করেছিল। মূলত এগুলো রোহিঙ্গা সংকটের কারণে উখিয়ার রাজাপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রসত্ম স্থানীয় লোকজনের মাঝে বিতরণের কথা ছিল।
বৈধতার কাগজপত্র থাকায় জব্দ করা সরঞ্জমাদি সংস্থাটিকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাসত্মবায়নের আগে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করায় এ ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে শেড-কে ভবিষ্যত কার্যক্রম চালানোর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
দা-ছুরি রোহিঙ্গাদের নয়: কঙবাজারের উখিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে গৃহস্থালি সরঞ্জামাদি দেওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আনত্মর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম। গতকাল শুক্রবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেয় সংস্থাটি। আইওএম’র ব্যাখ্যায় উলেস্নখ করা হয়, কঙবাজারের উখিয়ায় একটি এনজিও’র স্থানীয় অফিসে গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা সংক্রানত্ম পরিদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে আইওএম জানাচ্ছে, জাতিসংঘের এই সংস্থাটি দুটি স্থানীয় এনজিওকে প্রানিত্মক স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কৃষিকাজসহ নানা দৈনন্দিন কাজের জন্য সহায়তার অংশ হিসেবে কিছু গৃহস্থালি সরঞ্জামাদি দিয়েছিল।
এসব সরঞ্জামাদি শুধুমাত্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য। এগুলো কোনোভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নয়। কিন্তু বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় এটি নিয়ে প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এসব সরঞ্জামাদি ছিল কৃষিকাজে ব্যবহারের। এগুলো শুধুমাত্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দেওয়ার জন্য স্থানীয় এনজিওটিকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি উখিয়া উপজেলা ও কঙবাজার জেলা প্রশাসন খতিয়ে দেখতে পারে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পাওয়া সাপেক্ষে জব্দ করা সরঞ্জামাদি পুনরায় এনজিওটিকে ফেরত দেওয়া হোক। এই ভুল বোঝাবুঝির অবসানে আইওএম’র ব্যাখাটি গুরম্নত্বের সঙ্গে প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়।