অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের ড়্গুদ্র নৃগোষ্ঠী, যারা আদিবাসী নামেই পরিচিত তারা পশ্চাদপদতা, নির্যাতন ও বৈষম্যের হাত থেকে মুক্ত হয়নি আজও। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় আদিবাসীদের দাবি পূরণের আহবান জানানো হয়েছে। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহবায়ক রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা প্রধান অতিথি হিসেবে আদিবাসীদের দাবিগুলো তুলে ধরেন সেখানে।
দেশের উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি একথা ঠিক। তাদের দরিদ্রতা কমেনি। আজও তারা নির্যাতন-বৈষম্যের শিকার। তাদের বেদখল হওয়া জমি- সম্পত্তি ফেরত পায়নি। এ সব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি। এজন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করেই বেদখল ভূমি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ঠিক পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য যেমনটি করা হয়েছে। তবে সেখানেও সম্পাদিত শানিত্মচুক্তি বাসত্মবায়িত না হওয়ায় শানিত্ম ফিরে আসেনি। আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ভূমি কমিশন ছাড়াও সমতলের জন্য পৃথক আদিবাসী মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে ওই সভায়।
তাছাড়া আদিবাসীদের উন্নয়নে শিড়্গা সম্প্রসারণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন আদিবাসীদের মাতৃভাষার স্বীকৃতি এবং নিজস্ব স্কুল প্রতিষ্ঠা করে মাতৃভাষায় শিড়্গার সুযোগ সৃষ্টি করা। এ ছাড়া আদিবাসীদের পিছিয়ে থাকা অবস্থার অবসান হবে না বলে বক্তারা মত প্রকাশ করছেন।
স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই অংশ নিয়েছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রম্নর মোকাবিলা করেছে। তাই সংবিধানে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেড়্গ, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবেই স্বীকৃত। কিন্তু তার পরও আদিবাসীরা বৈষম্যের শিকার। গোবিন্দগঞ্জের মত গ্রাম পুড়িয়ে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনা আদিবাসীরা ভুলতে পারে না। এ ড়্গেত্রে রাষ্ট্র কর্তৃক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বক্তারা।
পাহাড়ের আদিবাসীদের মত সমতলের আদিবাসীদের স্বার্থও উপেড়্গার বিষয় নয়। মুক্তিযুদ্ধে যেমন বাঙালি-সংখ্যালঘু-আদিবাসী সবাই জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছে সে ভাবেই সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে সবার স্বার্থ রড়্গায় সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই প্রতিষ্ঠা হবে স্বপ্নের সোনার বাংলা।